Showing posts with label রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনসমূহ. Show all posts
Showing posts with label রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনসমূহ. Show all posts

Friday, October 3, 2025

জন অস্টিনের সার্বভৌমত্ব তত্ত্ব -- মোঃ হেলাল উদ্দিন

জন অস্টিনকে (১৯২১–১৯৯৯) বলা হয় একত্ববাদী সার্বভৌমত্বের জনক। তাঁর সার্বভৌমত্ব তত্ত্ব রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা। তিনি তার “Legal Positivism” দর্শনের ভিত্তিতে তিনি সার্বভৌমত্বকে ব্যাখ্যা করেছেন। অস্টিনের মতে, সার্বভৌমত্ব হলো রাষ্ট্রের সেই সর্বোচ্চ ক্ষমতা যা আইন প্রণয়ন এবং তার কার্যকরতা নিশ্চিত করে। সার্বভৌমত্বের ধারণা রাষ্ট্রের স্বাধীনতা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের প্রতীক। এটি এমন এক ক্ষমতা যা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় না। 

অস্টিনের তত্ত্বে, সার্বভৌমত্ব কেবলমাত্র একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা  নির্দিষ্ট সংস্থা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। আর এই সার্বভৌম কর্তৃপক্ষের আদেশই আইন হিসেবে বিবেচিত হয়। তার মতে, সার্বভৌমত্ব নিরঙ্কুশ এবং অভ্রান্ত।

 

অস্টিনের সার্বভৌমত্ব তত্ত্বের বৈশিষ্ট্য

১।  আইনের উৎস: অস্টিনের মতে, সার্বভৌম হলো সেই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান, যার আদেশ অনুসারে আইন তৈরি হয়। এই আইন মেনে চলতে জনগণ বাধ্য থাকে। সার্বভৌমত্বের আদেশই আইন হিসেবে গণ্য হয়।

২।  সর্বোচ্চ ক্ষমতা: সার্বভৌম ক্ষমতা হল নিরঙ্কুশ এবং সর্বোচ্চ ক্ষমতা। এটি অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নয়। 

৩। নির্ধারিত গোষ্ঠী: অস্টিনের মতে, সার্বভৌমত্ব একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা জনগোষ্ঠীর উপর প্রয়োগ করা হয়। এই গোষ্ঠী হলো সেই জনগণ যারা সার্বভৌমের আদেশ মেনে চলে এবং এর নির্দেশ মানতে বাধ্য থাকে। 

৪। আদেশ ও বাধ্যবাধকতা: আইন হলো সার্বভৌম কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ, যা মেনে চলতে জনগণ বাধ্য। এই আদেশ অমান্য করলে শাস্তির বিধান প্রয়োগ করা হয়। 

৫। আদেশের অভ্যাস: অস্টিনের মতে, জনগণ সার্বভৌমের আদেশ মেনে চলার অভ্যাস গড়ে তোলে। এটি একটি রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে।

৬। প্রতিসম আদেশের অভাব: সার্বভৌম নিজে তার আদেশ মেনে চলতে বাধ্য নয় এবং তার আদেশের উপর অন্য কোনো আদেশ চাপানো যায় না।

৭। অবিচ্ছিন্ন ক্ষমতা: অস্টিনের মতে, সার্বভৌমত্বের ক্ষমতা অবিচ্ছিন্ন। এটি অন্য কোনো শক্তির দ্বারা লঘু করা যায় না। সার্বভৌমত্বের এই বৈশিষ্ট্য রাষ্ট্রের শাসন ও আইন কার্যকর রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

৮। নিরঙ্কুশতা: সার্বভৌমত্বের ক্ষমতা সম্পূর্ণ নিরঙ্কুশ এবং এর আদেশের উপর কোনো প্রকার সীমাবদ্ধতা বা বাধা আরোপ করা যায় না।

৯। বাধ্যবাধকতা নিশ্চিতকরণ: অস্টিনের তত্ত্বে জনগণ সার্বভৌমের আদেশ অনুযায়ী কাজ করতে বাধ্য এবং এর ব্যতিক্রম হলে শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে।

১০। সার্বভৌমের প্রতি আনুগত্য: সার্বভৌম কর্তৃপক্ষের প্রতি জনগণের আনুগত্য বাধ্যতামূলক। এই আনুগত্য রাষ্ট্রের শাসন ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক।

১১। আইন ও নৈতিকতার পৃথকীকরণ: অস্টিনের মতে, আইন এবং নৈতিকতা পৃথক। আইন সার্বভৌম কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ, নৈতিকতার সাথে এর কোনো সংযোগ নেই।

১২। ক্ষমতার কেন্দ্রিকতা: সার্বভৌম ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত এবং এটি বিভিন্ন স্তরের মধ্যে বিভাজিত নয়। এটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতা হিসেবে কাজ করে।

১৩। সার্বভৌমত্বের চিরন্তনতা: অস্টিনের মতে, সার্বভৌমত্ব চিরন্তন এবং এটি রাষ্ট্রের অস্তিত্বের সাথে যুক্ত। এটি সময়ের সাথে পরিবর্তিত হয় না।


সমালোচনা:

অস্টিনের সার্বভৌমত্ব তত্ত্ব রাষ্ট্রবিজ্ঞান এবং আইনের ক্ষেত্রে প্রভাবশালী হলেও এটি বিভিন্ন ত্রুটি ও সীমাবদ্ধতার জন্য সমালোচিত হয়েছে। নিম্নে এর কতিপয় সমালোচনাগুলো  উল্লেখ করা হলো:

১। বাস্তবতার সাথে অসামঞ্জস্য: আধুনিক রাষ্ট্রের বাস্তবতায় ক্ষমতা এককেন্দ্রিক নয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক শক্তি একত্রে কাজ করে। অস্টিনের একক সার্বভৌম শক্তির ধারণা এই বহুমাত্রিক বাস্তবতার সাথে খাপ খায় না।

২। গণতন্ত্র বিরোধী: সার্বভৌমত্বের ধারণা কেন্দ্রীভূত ক্ষমতার উপর নির্ভর করে, যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এটি ব্যক্তি স্বাধীনতা এবং জনগণের অংশগ্রহণের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

৩। আইনের বৈধতার উপেক্ষা: অস্টিন জনগণের সম্মতি ও নৈতিক মানদণ্ডকে গুরুত্ব দেননি। তিনি আইনকে কেবল সার্বভৌমের আদেশ হিসেবে দেখেছেন, যা অনেক ক্ষেত্রেই জনস্বার্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।

৪। প্লুরালিস্টিক সমালোচনা: বহুত্ববাদী দর্শনের প্রবক্তারা মনে করেন আধুনিক সমাজে ক্ষমতা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিভাজিত। পরিবার, ধর্মীয় গোষ্ঠী, এবং পেশাজীবী সংগঠনের মতো প্রতিষ্ঠান আইন প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অস্টিনের তত্ত্ব এই বহুত্ববাদী বাস্তবতাকে উপেক্ষা করেছে।

৫। স্বৈরতান্ত্রিক ঝুঁকি: একক সার্বভৌম ক্ষমতার ধারণা স্বেচ্ছাচারিতার পথ তৈরি করতে পারে। এটি স্বৈরতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করে যেটি ব্যক্তি অধিকারের জন্য হুমকিস্বরূপ।

৬। আন্তর্জাতিক সীমাবদ্ধতা: আধুনিক রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ, এবং বহির্বিশ্বের চাপ দ্বারা প্রভাবিত হয়। অস্টিনের তত্ত্ব এই বাস্তবতাকে বিবেচনায় আনেনি।

৭। অপর্যাপ্ত মাপকাঠি: অস্টিনের তত্ত্বে সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের আনুগত্যের মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণের জন্য কোনো নির্দিষ্ট মানদণ্ড নেই। এতে আইন এবং ক্ষমতার সীমানা অস্পষ্ট রয়ে যায়।

৮। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ: আধুনিক রাষ্ট্রে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিচার বিভাগ, আইনসভা, এবং নির্বাহী বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করে। অস্টিনের তত্ত্বে এই বিকেন্দ্রীকরণের কোনো বিবেচনা নেই।

৯। নৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট উপেক্ষা: অস্টিন আইনের নৈতিক এবং সামাজিক প্রেক্ষাপটকে বিবেচনা করেননি। তার মতে, আইন কেবল সার্বভৌমের আদেশ, যা প্রায়ই সামাজিক এবং নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির বিপরীতে যেতে পারে।

১০। সার্বভৌমত্বের সীমাবদ্ধতা: আধুনিক রাষ্ট্রে সার্বভৌমত্ব সম্পূর্ণ সীমাহীন নয়। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, বৈশ্বিক চুক্তি, এবং অর্থনৈতিক চাপ রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে।

এছাড়াও অস্টিন ব্যক্তি এবং রাষ্ট্রের সম্পর্কের জটিলতাকে সঠিকভাবে অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়েছেন । তাঁর তত্ত্ব প্রাচীন রাষ্ট্র কাঠামোর জন্য প্রাসঙ্গিক হলেও আধুনিক রাষ্ট্রে এটি বাস্তবায়ন করা কঠিন। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং বৈশ্বিক সংস্থার প্রভাবের কারণে তার তত্ত্ব কার্যকর নয়।


পরিশেষে বলা যায়, অস্টিনের সার্বভৌমত্ব তত্ত্ব একটি নিরঙ্কুশ এবং শক্তিশালী ধারণা হিসেবে রাষ্ট্রের আইন ও শাসন ব্যবস্থার কাঠামো নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যদিও আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রভাব রয়েছে, তবুও অস্টিনের তত্ত্ব রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মৌলিক ধারণাগুলোর মধ্যে অন্যতম। অস্টিনের তত্ত্ব রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও আইনের ক্ষেত্রে এক অসাধারণ অবদান হিসেবে বিবেচিত হয়। 

Friday, June 16, 2023

সংবিধান সম্পর্কিত আলোচনা - মোঃ হেলাল উদ্দিন

সংবিধান:

সংবিধান হলো রাষ্ট্রের জীবন পদ্ধতি, যা রাষ্ট্র তার জন্য বেছে নিয়েছে। (এরিস্টটল)

সংবিধান হলো এমন কতকগুলো নিয়মের সমষ্টি, যা শাসকের ক্ষমতা ও শাসিতের অধিকার এবং উভয়ের মধ্যে সম্পর্কের সামঞ্জস্য বিধান করে। (সি এফ স্ট্রাং)

সংবিধানের উৎস:
সংবিধানের উৎস সমূহের মধ্যে আছে-
১. প্রচলিত রীতিনীতি,
২. লিখিত দলিল,
৩. বিচারকের রায়,
৪. বিধিবদ্ধ আইন,
৫. গণপরিষদ,
৬. সাধারণ আইন,
৭. প্রামাণ্য পুস্তকসমূহ ইত্যাদি।

সংবিধান প্রতিষ্ঠার পদ্ধতি:
সংবিধান প্রতিষ্ঠার পদ্ধতির মধ্যে রয়েছে-
১. অনুমোদন। যেমন- ১২১৫ সালের ম্যাগনাকার্টা, ১৭৯৯ সালের নেপোলিয়নের এবং ১৯০৫ সালে দ্বিতীয় জার নিকোলাসের সংবিধান ঘোষণা,
২. গণপরিষদ। আমেরিকা, ভারত, বাংলাদেশের সংবিধান,
৩. ক্রমবিবর্তন। যেমন-  ব্রিটিশ সংবিধান, এবং
৪. বিপ্লব। যেমন- ১৯১৭ সালের রাশিয়ার সংবিধান, স্পেনের সংবিধান।।

সংবিধানের প্রকারভেদ:
লেখার উপর ভিত্তি করে সংবিধান দুই প্রকার। যথা-
১. লিখিত সংবিধান এবং
২. অলিখিত সংবিধান।

পরিবর্তনের উপর ভিত্তি করে সংবিধান দুই প্রকার। যথা-
১. সুপরিবর্তনীয় সংবিধান এবং
২. দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধান।

উত্তম সংবিধানের বৈশিষ্ট্য:
একটি উত্তম সংবিধানের বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে-
১. সুস্পষ্টতা,
২. সংক্ষিপ্ততা,
৩. স্থায়িত্ব,
৪. ব্যাপকতা,
৫. লিখিত,
৬. মৌলিক অধিকার,
৭. জনমতের অগ্রাধিকার,
৮. বিচার বিভাগের প্রাধান্য প্রভৃতি।

আইন সম্পর্কিত আলোচনা -- মোঃ হেলাল উদ্দিন

 আইন, আইনের উৎস, শ্রেণি বিভাগ এবং আন্তর্জাতিক আইন সম্পর্কিত আলোচনা

 

আইন:

আইন হলো মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সাধারণ নিয়ম, যা সরকার যথাযথ নির্দেশের মাধ্যমে চালু করে এবং এগুলো লঙ্ঘল হলে বল প্রয়োগ বা শাস্তি প্রদানের ব্যবস্থা করে তা কার্যকর করে থাকে।


আইনের উৎসসমূহ:

১. প্রথা,

২. ন্যায়বোধ,

৩. ধর্ম,

৪. বৈজ্ঞানিক আলোচনা,

৫. বিচারের রায়,

৬. আইনসভা,

৭. নির্বাহী ঘোষণা,

৮. সংবিধান ইত্যাদি।


আইনের প্রকারভেদ:

আইন প্রথমত দুই প্রকার। যথা-

১. জাতীয় আইন এবং

২. আন্তর্জাতিক আইন।


জাতীয় আইন আবার দুই প্রকার। যথা-

১. সরকারি আইন এবং

২. বেসরকারি আইন।


সরকারি আইনকে আবার তিনভাগে ভাগ করা হয়। যথা-

১. সাংবিধানিক আইন,

২. প্রশাসনিক আইন এবং

৩. ফৌজদারি আইন।


সাংবিধানিক আইনকে দুইভাগে ভাগ করা হয়। যথা-

১. লিখিত আইন এবং

২. অলিখিত আইন।


আন্তর্জাতিক আইন আবার দুই প্রকার। যথা-

১. ব্যক্তিকেন্দ্রিক আন্তর্জাতিক আইন এবং

২. সরকারি আন্তর্জাতিক আইন।


সরকারি আন্তর্জাতিক আইনকে আবার তিনভাগে ভাগ করা হয়। যথা-

১. শান্তিসংক্রান্ত আইন,

২. যুদ্ধসংক্রান্ত আইন এবং

৩. নিরাপত্তা সংক্রান্ত আইন।


আন্তর্জাতিক আইন:

আন্তর্জাতিক আইন হলো কতকগুলো নিয়মের সমষ্টি, যেগুলো দ্বারা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারিত হয়, আন্তর্জাতিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যাবলী এবং সকল প্রতিষ্ঠানসমূহের সাথে রাষ্ট্রসমূহের ও ব্যক্তির সম্পর্ক ও দায়িত্ব-কর্তব্য নিয়েও আলোচনা করে।


আন্তর্জাতিক আইনের উৎস তিনটি। যা হলো- চিরাচরিত প্রথা, যুক্তি এবং সম্মতি।

রাষ্ট্র এবং কল্যাণমূলক রাষ্ট্র

রাষ্ট্র:

রাষ্ট্র হচ্ছে এমন এক জনসমষ্টি যারা একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে সুসংগঠিত সরকার গঠন করে স্বাধীনভাবে বসবাস করে।

অন্যভাবে বলা যায়, রাজনৈতিক সংগঠনের নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, সুসংগঠিত সরকার, সার্বভৌম আধিপত্য এবং স্থায়ীভাবে বসবাসকারী জনসমষ্টি রয়েছে তাই রাষ্ট্র।


রাষ্ট্রের উপাদান:

রাষ্ট্রের প্রধান উপাদান চারটি। যথা-

১. স্থায়ী জনসমষ্টি,

২. নির্দিষ্ট ভূখণ্ড,

৩. সরকার এবং

৪. সার্বভৌমত্ব।


কল্যাণমূলক রাষ্ট্র:

যে রাষ্ট্রে প্রতিটি নাগরিকের জন্য খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান,স্বাস্থ্য ও শিক্ষার সুবিধা প্রদান করে এবং বেকারত্ব, অসুস্থতা বা অন্যকোন কারণে জীবিকা অর্জনে ব্যর্থ হলে জনগণের পূর্ণ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা বিধান করে তাকে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র বলে।


বাংলাদেশ কি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র:

অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে অস্থিতিশীলতা দূর করে জনগণের সার্বিক কল্যাণ ও মুক্তির জন্য বাংলাদেশ সরকার সুদূরপ্রসারী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে-

১. খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন,

২. ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার,

৩. শ্রমিকের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন,

৪. অর্থনৈতিক উন্নয়ন,

৫. বিনা বেতনে শিক্ষা,

৬. বয়স্কভাতা প্রদান প্রভৃতি।

তবে কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের সকল বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান তা বলা যাবে না। কাজেই পুরোপুরিভাবে বাংলাদেশ এখনও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হয়ে উঠতে পারেনি- তবে সে প্রয়াস চলছে।

Monday, January 16, 2023

ক্ষমতার পূর্ণ স্বতন্ত্রীকরণ সম্ভবও নয়, বাঞ্ছনীয়ও নয়

 

ক্ষমতার পূর্ণ স্বতন্ত্রীকরণ সম্ভবও নয়, বাঞ্ছনীয়ও নয়
 
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি রাষ্ট্রদর্শনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও সমালোচকগণ মনে করেন, ক্ষমতার পূর্ণ স্বতন্ত্রীকরণ সম্ভবও নয়, এবং কাম্যও নয়।
 
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির সমালোচনায় J. S. Mill বলেন, সরকারের প্রতিটি বিভাগ যদি নিজ নিজ ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র হয় তাহলে একে অপরের কাজে হস্তক্ষেপ করবে এবং রাজনৈতিক অচলাবস্থা সৃষ্টি হবে।
 
অধ্যাপক লাস্কি বলেন, আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ যদি সম্পূর্ণ পৃথকভাবে কাজ করে তাহলে প্রত্যেক বিভাগের দায়িত্বশীলতা সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হবে। ফলে স্বতন্ত্র বিভাগগুলো পরস্পরের মধ্যে সংঘাত আনবে এবং সংঘাত থেকে বিপ্লব সৃষ্টি হবে।
 
MacIver বলেন, ক্ষমতার পূর্ণ স্বতন্ত্রীকরণ করা হলে বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা ও অনৈক্যের সৃষ্টি হতে পারে।
 
এছাড়াও 'ক্ষমতার পূর্ণ স্বতন্ত্রীকরণ সম্ভবও নয়, এবং বাঞ্ছনীয়ও নয়' এর পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি নিম্নে তুলে ধরা হলো-
  1. সরকারের বিভিন্ন বিভাগকে বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব নয়।
  2. ক্ষমতার স্বতন্ত্রীকরণে রাষ্ট্র নিষ্প্রাণ হয়ে পরে।
  3. রাজনৈতিক অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়।
  4. সরকার অখন্ড ও অবিচ্ছেদ্য।
  5. জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্রের অনুপযোগী।
  6. পৃথকীকরণে দায়িত্বহীনতার জন্ম হয়।
  7. কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়।
  8. সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় সম্ভব নয়।
  9. আইন বিভাগের প্রাধান্য বিদ্যমান।
  10. সরকার শুধু তিনটি বিভাগের মধ্য সীমাবদ্ধ নয়।
 

 ক্ষমতার পূর্ণ স্বতন্ত্রীকরণ সম্ভবও নয়, বাঞ্ছনীয়ও নয়

মোঃ হেলাল উদ্দিন

ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির প্রয়োগ

 

ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির প্রয়োগ
 
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির প্রয়োগ দেখা যায়। তবে এ প্রয়োগ আংশিক, সম্পূর্ণ নয়। কতিপয় দেশের ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির প্রয়োগ হলো-
 
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রঃ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে এ নীতির প্রয়োগ লক্ষ্য করা যায়। আইন বিভাগের ক্ষমতা কংগ্রেসের উপর, শাসন বিভাগের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির এবং বিচার বিভাগের ক্ষমতা সুপ্রীম কোর্ট ও অন্যান্য আদালতের হাতে থাকে। এতদসত্তেও এখানে এ নীতির পূর্ণ প্রয়োগ দেখা যায় না। কারন প্রেসিডেন্ট বাণী প্রেরণের মাধ্যমে, নির্বাহী বিভাগ আদেশের মাধ্যমে এবং বিল ভেটো প্রদানের মাধ্যমে কংগ্রেসকে প্রভাবিত করে থাকে। অনুরুপভাবে সিনেটের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টকেও প্রভাবিত করে থাকে।
 
ব্রিটেনঃ ব্রিটেনে এ নীতির কার্যকারিতা সম্পর্কে উইলোবি বলেছেন, ব্রিটেন সরকারের কার্যক্রমের দিকে তাকালে দেখা যায় যে সেখানে বিভাগীয় স্বতন্ত্রীকরণ নীতিটি অত্যন্ত স্থূলভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে। যা অত্যন্ত কম বা কোন সরকার ব্যবস্থাতেই পরিলক্ষিত হয়না।
 
বাংলাদেশঃ বাংলাদেশের সংবিধানে এটা আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়নি। সংবিধানে আলাদা তিনটি বিভাগের কথা বলা হলেও আইন সভার স্বার্বভৌমত্বকে স্বীকার করা হয়েছে। শাসন বিভাগ আইন সভার নিকট দায়ী, বিচার বিভাগ কোন আইন বাতিল করতে পারে না, শুধু সংবিধান বিরোধী বা অবৈধ বলতে পারে। তাছাড়া বিচারকদের নিয়োগ শাসন বিভাগের হাতে এবং অপসারণ আইন ও শাসন বিভাগ সংশ্লিষ্ট।
 

ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির প্রয়োগ

মোঃ হেলাল উদ্দিন

Montesquieu এর ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি

 

Montesquieu এর ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি
 
ফরাসী রাষ্ট্রচিন্তাবিদ Montesquieu তার The Sprite of Laws বইয়ে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির বিশদ ও বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন।
Montesquieu এ নীতির অনুপ্রেরণা লাভ করেন Jhon Locke এর কাছ থেকে, যদিও তাদের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য বিদ্যমান রয়েছে। Montesquieu যে নীতির ঘোষণা করেন তা কোন গণতান্ত্রিক বিশ্বাসে উদ্বুদ্ধ হয়ে করেননি। তার মূল লক্ষ্য হচ্ছে ব্যক্তি স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করা, এতে যদি গণতন্ত্রকে খাটোও করতে হয় তাতে তার কোন আপত্তি ছিলো না। তিনি বিশেষ কোন বিভাগকে অত্যাধিক গুরুত্বপূর্ণ বলেননি। তার মতে সরকারের প্রত্যেকটি বিভাগ স্বনির্ভর ও সমক্ষমতা সম্পন্ন।
প্রত্যেক সরকারেরই আইন, শাসন ও বিচার বিষয়ক ক্ষমতা রয়েছে। এই তিন ধরনের ক্ষমতার ব্যাখ্যায় Montesquieu বলেন, প্রথমটির মাধ্যমে শাসক স্থায়ী ও অস্থায়ী আইন প্রণয়ন করে, প্রয়োজনে পূর্বের আইন বাতিল বা সংশোধন করেন। দ্বিতীটির মাধ্যমে শান্তি বা যুদ্ধ করেন, জননিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার ব্যবস্থা নেয় এবং তৃতীয়টির মাধ্যমে অপরাধীদের শাস্তি প্রদান বা বিবাদ সমূহের নিস্পত্তি করেন।
Montesquieu মনে করেন, যখন আইন প্রণয়ন ও শাসন ক্ষমতা একই হাতে থাকবে তখন স্বাধীনতা বলে কিছুই থাকবে না। আবার সে ক্ষেত্রেও স্বাধীনতা থাকবে না, যে ক্ষেত্রে বিচার বিভাগীয় ক্ষমতা আইন বিভাগ বা শাসন বিভাগীয় ক্ষমতা থেকে পৃথক করা না যায়। কাজেই ব্যক্তি স্বাধীনতার স্বার্থেই সরকারের ক্ষমতা পৃথকীকরণ করা একান্ত প্রয়োজন।
তবে Montesquieu শুধু ব্যক্তি স্বাধীনতার জন্য সরকারের ভিন্ন ভিন্ন সংস্থাগুলোকে ভিন্নভাবে ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণের কথাও বলেছেন। কেননা তিনি মনে করেন প্রতিটি সংস্থার ক্ষমতা অন্য এক বা একাধিক সংস্থা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত না হলে, একটি সংস্থার অতিরিক্ত ক্ষমতার কারনে ব্যক্তি স্বাধীনতা রক্ষার পরিবর্তে তা স্বাধীনতার প্রতি হুমকি সৃষ্টি করবে।
 
 Montesquieu এর ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি

Wednesday, January 11, 2023

 ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি, ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির উৎপত্তি এবং ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির গুরুত্ব

 ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি

"When legislative and executive powers are united in the same person or the governing body, there can be no freedom. Nor is there freedom where the power to adjudicate is not separated from legislative power and the executive power." ---- Montesquieu

ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি বলতে বুঝায় এমন এক ধরনের ব্যবস্থার প্রবর্তন যে ব্যবস্থার মধ্যে সরকারের তিনটি বিভাগ- আইন, শাসন ও বিচার বিভাগ তাদের নিজ নিজ গন্ডির আওতায় থেকে একে অপরের কাজে হস্তক্ষেপ না করে স্বতন্ত্রভাবে নিজেদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে থাকে।

মোটকথা, যে ব্যবস্থায় সরকারের প্রতিটি বিভাগ স্বাধীনভাবে তাদের স্ব স্ব দায়িত্ব পালন করবে এবং কোন বিভাগ অপর কোন বিভাগের কার্যাবলির উপর হস্তক্ষেপ করতে পারেনা তাই হলো ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি।

 

ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির উৎপত্তি

গ্রিক দার্শনিক Aristotle সর্বপ্রথম সরকারের ক্ষমতাকে বিভক্ত করে তাকে আলোচনামূলক, শাসন সংক্রান্ত এবং বিচারসংক্রান্ত এই তিন শ্রেণিতে বিভক্ত করেন এবং বলেন, "শাসন ব্যবস্থায় এই তিন ক্ষমতা একই ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের হাতে থাকলে শাসন কার্যের নিপুণতা হ্রাস পেতে পারে।"

মধ্যযুগে Marsilieo of Padua এ সম্পর্কে আলোচনা করে বলেন, শাসন ও আইন বিভাগের ক্ষমতা বিভক্ত হওয়া বাঞ্ছনীয়।

আধুনিককালে Jean Bodin, Jhon Locke এবং Montesquieu এ নীতি সম্পর্কে বিশাদ আলোচনা করেন এবং সরকারের তিন বিভাগকে আলাদা রাখার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।

 

ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির গুরুত্ব

ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির রাজনৈতিক গুরুত্ব অনেক। কেননা ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণের মাধ্যমে-

  1. স্বেচ্ছাচারিতা রোধ করা যায়।
  2. ব্যক্তি স্বাধীনতা রক্ষা হয়।
  3. সরকারের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।
  4. বিশেষজ্ঞ ব্যক্তির সৃষ্টি হয়।
  5. ভারসাম্য নীতির প্রবর্তন হয়।
  6. নাগরিক চেতনার বিকাশ ঘটে থাকে।
 
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি, ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির উৎপত্তি এবং ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির গুরুত্ব

Thursday, January 5, 2023

রাজনৈতিক দল সম্পর্কিত আলোচনা

রাজনৈতিক দল

সাধারণত যখন কিছু সংখ্যক মানুষ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে একমত পোষণ করে এবং নূন্যতম কর্মসূচির ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হয় তখন তাকে রাজনৈতিক দল বলা হয়।

MacIver এর মতে, রাজনৈতিক দল হচ্ছে কোন নীতির সমর্থনে সংগঠিত সংঘ বিশেষ, যা নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সরকার পরিচালনায় প্রয়াসী হয়।

E. Barker এর মতে, রাজনৈতিক দল হলো বিশেষ একটি মতাদর্শের দ্বারা পরিচালিত দল বা গোষ্ঠী, যারা জাতীয় স্বার্থে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে সর্বসাধারণের কল্যাণ সাধনের জন্য সংঘবদ্ধ হয়, তখনই একটি রাজনৈতিক দলের উদ্ভব হয়।

মোটকথা, রাজনৈতিক দল হচ্ছে এমন একটি জনসমষ্টি যারা রাষ্ট্রীয় সমস্যা সমাধানের পন্থা জনসম্মুখে প্রচারের মাধ্যমে জনসমার্থন লাভ করে এবং ক্ষমতা দখল ও নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সরকার গঠন করে।

রাজনৈতিক দলের কার্যাবলি

  1. সমস্যা নির্ধারণ
  2. নীতি নির্ধারণ ও কর্মসূচি প্রণয়ন
  3. দলীয় নীতি প্রচার ও জনমত গঠন
  4. নির্বাচনী প্রচারণা চালানো
  5. সরকার গঠন
  6. দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা
  7. রাজনৈতিক চেতনার বিস্তার
  8. দেশপ্রেম ও ঐক্যবোধ সৃষ্টি
  9. গণতন্ত্রের স্বরুপ বজায় রাখা ইত্যাদি।

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলের ভূমিকা

  1. সরকার ও জনগণের মধ্যে সংযোগ স্থাপন
  2. সরকার গঠন ও পরিচালনা
  3. সরকারের স্বেচ্ছাচার প্রতিরোধ
  4. নেতৃত্ব বিকাশের মাধ্যম
  5. সরকারের গণতান্ত্রিক চরিত্র বজায় রাখা
  6. ভিন্নমুখী মতামতকে একত্রীকরণ
  7. শান্তিপূর্ণ ভাবে সরকার পরিবর্তন ইত্যাদি।

রাজনৈতিক ব্যবস্থায় বিরোধী দলের ভূমিকা

  1. সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করা
  2. জনগণের অধিকার রক্ষা করা
  3. রাজনৈতিক শিক্ষার প্রসার
  4. সরকারি দলের স্বেচ্ছাচার রোধ করা
  5. শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতার পরিবর্তন নিশ্চিত করা
  6. সরকারি নীতি প্রণয়নে সহায়তা করা
  7. জাতীয় ঐক্যমত্য সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখা
  8. গণতন্ত্র রক্ষায় ভূমিকা পালন করা ইত্যাদি।

 

রাজনৈতিক দল, রাজনৈতিক দলের কার্যাবলি, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলের ভূমিকা, রাজনৈতিক ব্যবস্থায় বিরোধী দলের ভূমিকা।

Wednesday, January 4, 2023

 যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার কি? যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের সফলতার শর্তাবলি এবং যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের সাম্প্রতিক প্রবণতা

 যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার

সাধারণভাবে, যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার এমন একটি নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত এবং ক্ষমতা বিভক্ত করার এমন একটি পদ্ধতি যাতে কেন্দ্রীয় এবং অঙ্গরাজ্যের সরকার একই ক্ষেত্রে পরস্পর নির্ভরশীল এবং স্বাধীন।

Dicey - এর মতে, যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার এমন একটি রাজনৈতিক কৌশল যাতে জাতীয় সংহতির সাথে অঙ্গরাজ্য সরকারের অধিকারের সমন্বয় সাধন সম্ভব।

সুতরাং কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে ক্ষমতা বন্টনের নীতিমালার ভিত্তিতে যে সরকার প্রতিষ্ঠিত হয় তাকে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার বলে।


যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের সফলতার শর্তাবলি

K. C. Wheare বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার কদাচিৎ দেখা যায়, কারন এর শর্ত সমূহ অনেক। যেমন-

যুক্তরাষ্ট্রীয় মনোবৃত্তিঃ Dicey মিলিত হবার ইচ্ছাকে যুক্তরাষ্ট্রের সফলতার প্রথম শর্ত বলে উল্লেখ করেছেন।

  1. ভৌগলিক সংলগ্নতা,
  2. জাতীয়তাবোধের সুদৃঢ় বন্ধন,
  3. অঙ্গরাজ্যের সমতা,
  4. সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের সমতা,
  5. গণতান্ত্রিক পরিবেশ,
  6. আইনের প্রতি শ্রদ্ধা,
  7. রাজনৈতিক সচেতনতা,
  8. সুস্থ দল ব্যবস্থা,
  9. সংবিধানের প্রাধান্য,
  10. লিখিত ও দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধান,
  11. দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা,
  12. স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগ,
  13. আর্থিক সামর্থ্য,
  14. যোগ্য নেতৃত্ব ইত্যাদি।

 

যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের সাম্প্রতিক প্রবণতা

অনেকের মতে, কেন্দ্রীয় সরকারের দ্রুত ক্ষমতা ও মর্যাদা বৃদ্ধির ফলে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার ক্রমশ এককেন্দ্রিক সরকার হতে চলেছে। তাই সঙ্গত কারনেই বলা হয়ে থাকে যে, সর্বত্রই এককেন্দ্রিক প্রবণতা যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় বিদ্যমান। সাম্প্রতিক এই প্রবণতার কারন সমূহের মধ্যে রয়েছে-

  1. যুদ্ধ ও যুদ্ধের ভীতি,
  2. অর্থনৈতিক মন্দা,
  3. সামাজিক কার্যাবলীর প্রসার,
  4. শিল্প ও পরিবহণ ব্যবস্থায় যান্ত্রিক বিপ্লব,
  5. আঞ্চলিক সরকারের ব্যর্থতা ইত্যাদি। 

 

 যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার কি? যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের সফলতার শর্তাবলি এবং যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের সাম্প্রতিক প্রবণতা 

-- মোঃ হেলাল উদ্দিন 

গণতন্ত্র কি? গণতন্ত্রের সফলতার শর্তাবলি সমূহ

গণতন্ত্র

সাধারণভাবে গণতন্ত্র বলতে এমন এক ধরনের শাসন ব্যবস্থাকে বুঝায় যেখানে জনগণ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রতিনিধিদের মাধ্যমে নিজেদেরকে শাসন করে।

C. F. Strong এর মতে, যেখানে শাসনব্যবস্থা শাসিতের সক্রিয় সম্মতির উপর প্রতিষ্ঠিত তাই গণতন্ত্র।

Seelay বলেছেন, গণতন্ত্র এমন এক ধরনের সরকার যেখানে সকলেরই অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে।

Abraham Lincoln - এর মতে, "Democracy is a government of the people, by the people and for the people."

মোটকথা, যে শাসন ব্যবস্থায় ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলেরই সমান সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে এবং জনমতের ভিত্তিতে শাসনকার্য পরিচালিত হয় তাকে গণতন্ত্র বলা হয়।

 

গণতন্ত্রের সফলতার শর্তাবলি

Henry Maine বলেছেন, সকল প্রকার শাসন ব্যবস্থার মধ্যে গণতন্ত্র অত্যন্ত দুরুহ শাসনব্যবস্থা, এর সাফল্য কতকগুলো অত্যাবশ্যকীয় শর্ত পূরণের উপর নির্ভরশীল। শর্তসমূহ হলো- 

1.      গণতান্ত্রিক জনগণ 

2.     গণতান্ত্রিক পরিবেশ 

3.    গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য 

4.      আইনের শাসন 

5.     ব্যাপক শিক্ষাব্যবস্থাঃ রুশো বলেছেন, "গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সকলকেই একই সাথে শাসক ও শাসিতের দায়িত্ব পালন করতে হয়। শুধুমাত্র আনুগত্য প্রদর্শন করাই যথেষ্ট নয়, আনুগত্য যথার্থ কিনা তাও দেখতে হয়।" 

6.     জনহিতকর মানসিকতা 

7.     রাজনৈতিক সমাধান 

8.     সামাজিক সাম্য 

9.     অর্থনৈতিক সাম্যঃ Laski বলেছেন, "Political democracy is meaning less without economic democracy." 

10. স্বাধীন গণমাধ্যম 

11.  একাধিক রাজনৈতিক দল 

12. দায়িত্বশীল গণপ্রতিনিধি 

13.জনগণের আস্থা অর্জনঃ অধ্যাপক গ্যাটেল বলেন, গণতন্ত্রের সাফল্য শাসকবৃন্দের দক্ষতা ও জনগণের সন্তুষ্টির মধ্যে নিহিত। 

14.  সহনশীলতা 

15. লিখিত সংবিধান 

16. ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ 

17. স্বাধীন বিচার বিভাগ 

18. উপযুক্ত নেতৃত্ব ইত্যাদি।

 

গণতন্ত্র কি? গণতন্ত্রের সফলতার শর্তাবলি সমূহ 

-- মোঃ হেলাল উদ্দিন