Showing posts with label ক্যারিয়ার পরামর্শ. Show all posts
Showing posts with label ক্যারিয়ার পরামর্শ. Show all posts

Sunday, May 10, 2026

বিসিএস পরীক্ষায় সফল হওয়ার বিস্তারিত পরামর্শ -- মোঃ হেলাল উদ্দিন

বিসিএস পরীক্ষায় সফলতা কেবল মেধার ওপর নির্ভর করে না; এর সঙ্গে প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা, ধারাবাহিক পরিশ্রম, ধৈর্য এবং কৌশল। অনেক শিক্ষার্থী ভালো মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে পিছিয়ে পড়ে। আবার অনেকে নিয়মিত ও পরিকল্পিত প্রস্তুতির মাধ্যমে সফল হয়। নিচে বিসিএস প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।


১. দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ

বিসিএস কোনো স্বল্পমেয়াদি পরীক্ষা নয়। এটি একটি দীর্ঘ প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া। তাই শুরু থেকেই একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা থাকতে হবে।

কীভাবে পরিকল্পনা করবে?

ক) পরীক্ষার ধাপ বুঝতে হবে

  • প্রিলিমিনারি
  • লিখিত
  • ভাইভা

প্রতিটি ধাপের জন্য আলাদা প্রস্তুতি প্রয়োজন।


খ) সময়ভিত্তিক লক্ষ্য নির্ধারণ

যেমন—

সময়লক্ষ্য
প্রথম ৩ মাসবেসিক বই শেষ
পরবর্তী ৩ মাসMCQ অনুশীলন
এরপরলিখিত উত্তর অনুশীলন
পরীক্ষার আগেরিভিশন ও মডেল টেস্ট

গ) দুর্বল বিষয় চিহ্নিত করা

যদি ইংরেজি দুর্বল হয়, তাহলে বেশি সময় দিতে হবে ইংরেজিতে।
যদি গণিতে ভয় থাকে, তবে প্রতিদিন অল্প অল্প অনুশীলন করতে হবে।


দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সুবিধা

  • পড়া গুছানো হয়
  • মানসিক চাপ কমে
  • আত্মবিশ্বাস বাড়ে
  • সিলেবাস শেষ করা সহজ হয়

২. প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় পড়ার অভ্যাস

বিসিএস প্রস্তুতিতে ধারাবাহিকতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

একদিন ১২ ঘণ্টা পড়ে পরে ৫ দিন না পড়ার চেয়ে প্রতিদিন ৫–৬ ঘণ্টা নিয়মিত পড়া বেশি কার্যকর।


কীভাবে রুটিন তৈরি করবে?

উদাহরণ

সময়কাজ
সকালইংরেজি ও পত্রিকা
দুপুরবাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি
বিকালগণিত ও মানসিক দক্ষতা
রাতরিভিশন ও MCQ

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

  • প্রতিদিন একই সময়ে পড়লে মনোযোগ বাড়ে
  • মোবাইল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করতে হবে
  • ছোট ছোট বিরতি নিয়ে পড়তে হবে

৩. বিগত বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ

বিসিএস প্রস্তুতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর একটি হলো Previous Question Analysis।

কারণ বিসিএসে প্রশ্নের ধরন প্রায়ই পুনরাবৃত্তি হয়।


কেন গুরুত্বপূর্ণ?

ক) প্রশ্নের ধরণ বোঝা যায়

কোন বিষয় থেকে বেশি প্রশ্ন আসে তা জানা যায়।

খ) গুরুত্বপূর্ণ টপিক চিহ্নিত হয়

যেমন—

  • মুক্তিযুদ্ধ
  • সংবিধান
  • সাম্প্রতিক বিশ্বরাজনীতি
  • বাংলা সাহিত্য
  • Grammar

কীভাবে বিশ্লেষণ করবে?

  • অন্তত ১০–১৫ বছরের প্রশ্ন সমাধান করো
  • ভুল উত্তর আলাদা খাতায় লেখো
  • যেসব বিষয় বারবার আসে সেগুলো বেশি পড়ো

৪. নিজস্ব নোট তৈরি

নোট হলো দ্রুত রিভিশনের সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম।

শুধু কোচিংয়ের নোটের ওপর নির্ভর করলে হবে না; নিজের ভাষায় সংক্ষিপ্ত নোট তৈরি করতে হবে।


কী ধরনের নোট করবে?

ক) তথ্যভিত্তিক নোট

  • সংবিধানের অনুচ্ছেদ
  • গুরুত্বপূর্ণ দিবস
  • আন্তর্জাতিক সংস্থা
  • অর্থনৈতিক তথ্য

খ) বিশ্লেষণধর্মী নোট

বিশেষ করে লিখিত পরীক্ষার জন্য।

যেমন—

  • দুর্নীতির কারণ
  • জলবায়ু পরিবর্তন
  • বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি

নোট তৈরির সুবিধা

  • দ্রুত রিভিশন সম্ভব
  • মনে রাখা সহজ হয়
  • লিখিত পরীক্ষায় ভাষা উন্নত হয়

৫. আত্মবিশ্বাস ধরে রাখা

বিসিএস প্রস্তুতির সময় হতাশা আসা স্বাভাবিক। অনেক সময় দীর্ঘদিন পড়েও কাঙ্ক্ষিত ফল আসে না। কিন্তু সফল হতে হলে মানসিকভাবে শক্ত থাকতে হবে।


কীভাবে আত্মবিশ্বাস বজায় রাখবে?

ক) অন্যের সঙ্গে তুলনা করবে না

প্রত্যেকের প্রস্তুতির ধরণ আলাদা।


খ) ছোট ছোট সাফল্য উদযাপন করো

যেমন—

  • একটি বই শেষ করা
  • একটি মডেল টেস্টে ভালো নম্বর পাওয়া

গ) ইতিবাচক মানসিকতা রাখো

ব্যর্থতা মানেই শেষ নয়; বরং শেখার সুযোগ।


মনে রাখতে হবে

বিসিএসে সফলদের বড় অংশ প্রথমবারে সফল হয়নি।
ধৈর্য ও অধ্যবসায়ই এখানে মূল শক্তি।


৬. নিয়মিত মডেল টেস্ট দেওয়া

শুধু পড়লেই হবে না; নিজেকে যাচাই করাও জরুরি।

মডেল টেস্টের মাধ্যমে বোঝা যায়—

  • কতটুকু প্রস্তুতি হয়েছে
  • কোথায় দুর্বলতা আছে
  • সময় ব্যবস্থাপনা কেমন

মডেল টেস্টের উপকারিতা

ক) পরীক্ষাভীতি কমে

বাস্তব পরীক্ষার অভিজ্ঞতা তৈরি হয়।

খ) গতি বাড়ে

কম সময়ে বেশি প্রশ্ন সমাধানের দক্ষতা বাড়ে।

গ) ভুল বিশ্লেষণ করা যায়

কোন বিষয়ে বারবার ভুল হচ্ছে তা বোঝা যায়।


কীভাবে মডেল টেস্ট দেবে?

  • নির্দিষ্ট সময় ধরে পরীক্ষা দাও
  • OMR শিট ব্যবহার করতে পারো
  • পরীক্ষার পরিবেশ তৈরি করো

৭. সময় ব্যবস্থাপনা শেখা

বিসিএসে সময় ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অনেকেই সব জানার পরও সময়ের অভাবে ভালো করতে পারে না।


প্রিলিমিনারিতে সময় ব্যবস্থাপনা

২০০ নম্বরের পরীক্ষা ২ ঘণ্টায় শেষ করতে হয়।

কৌশল

  • সহজ প্রশ্ন আগে উত্তর দাও
  • কঠিন প্রশ্ন পরে রাখো
  • সময় ধরে MCQ সমাধান অনুশীলন করো

লিখিত পরীক্ষায় সময় ব্যবস্থাপনা

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

ক) প্রশ্ন নির্বাচন

যে প্রশ্ন ভালো পারো সেটি আগে লিখো।

খ) নির্দিষ্ট সময় ভাগ

যেমন—

  • ২০ নম্বর প্রশ্ন = ২০ মিনিট

গ) অতিরিক্ত সময় নষ্ট না করা

একটি প্রশ্নে বেশি সময় দিলে অন্য প্রশ্ন অসম্পূর্ণ থেকে যেতে পারে।


সময় ব্যবস্থাপনার বাস্তব কৌশল

  • দৈনিক To-do list তৈরি
  • Pomodoro Technique ব্যবহার
  • মোবাইল ব্যবহারের সময় সীমিত করা
  • অপ্রয়োজনীয় আড্ডা কমানো

বিসিএস প্রস্তুতিতে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

১. পত্রিকা পড়ার অভ্যাস

বিশেষ করে—

  • সম্পাদকীয়
  • আন্তর্জাতিক সংবাদ
  • অর্থনীতি

২. বাংলা ও ইংরেজিতে লেখার দক্ষতা বাড়ানো

লিখিত পরীক্ষার জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


৩. স্বাস্থ্য ঠিক রাখা

  • পর্যাপ্ত ঘুম
  • নিয়মিত ব্যায়াম
  • স্বাস্থ্যকর খাবার

মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা ছাড়া দীর্ঘ প্রস্তুতি সম্ভব নয়।


৪. সঠিক বই নির্বাচন

অতিরিক্ত বই না পড়ে নির্দিষ্ট বই বারবার পড়া ভালো।



বিসিএস পরীক্ষায় সফলতা রাতারাতি আসে না। এটি ধৈর্য, শৃঙ্খলা, নিয়মিত অধ্যয়ন এবং আত্মবিশ্বাসের ফল। সঠিক পরিকল্পনা, ধারাবাহিক অনুশীলন ও ইতিবাচক মানসিকতা থাকলে যে কেউ বিসিএসে সফল হতে পারে। মনে রাখতে হবে— “ধীরে চললেও থেমে যাওয়া যাবে না।”

 

বিসিএস পরীক্ষায় সফল হওয়ার বিস্তারিত পরামর্শ -- মোঃ হেলাল উদ্দিন


বিসিএস সম্পর্কিত বিস্তারিত আলোচনা -- মোঃ হেলাল উদ্দিন

বিসিএস বা বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (Bangladesh Civil Service) হলো বাংলাদেশের সরকারি প্রশাসনের সর্বোচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন চাকরি কাঠামো। এর মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীদের বিভিন্ন সরকারি ক্যাডারে নিয়োগ দেওয়া হয়।

এটি পরিচালনা করে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন বা BPSC।


বিসিএসের উদ্দেশ্য

বিসিএসের মূল উদ্দেশ্য হলো—

  • দক্ষ ও যোগ্য জনবল নিয়োগ
  • প্রশাসন পরিচালনা
  • রাষ্ট্রের নীতি বাস্তবায়ন
  • জনগণের সেবা নিশ্চিত করা
  • উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকি করা

বিসিএসের ইতিহাস (সংক্ষেপে)

বাংলাদেশের বিসিএস ব্যবস্থা মূলত ব্রিটিশ আমলের Indian Civil Service (ICS) থেকে বিকশিত হয়েছে।
পরে পাকিস্তান আমলে Civil Service of Pakistan (CSP) ছিল।
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (BCS) চালু হয়।


বিসিএসের ক্যাডারসমূহ

বিসিএসে সাধারণত দুই ধরনের ক্যাডার থাকে—

১. সাধারণ (General) ক্যাডার

যারা প্রশাসন, পররাষ্ট্র, পুলিশ ইত্যাদি পরিচালনা করে।

গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ ক্যাডার

  • প্রশাসন ক্যাডার
  • পুলিশ ক্যাডার
  • পররাষ্ট্র ক্যাডার
  • আনসার ক্যাডার
  • নিরীক্ষা ও হিসাব ক্যাডার
  • কর (Tax) ক্যাডার
  • কাস্টমস ও এক্সাইজ ক্যাডার
  • সমবায় ক্যাডার
  • তথ্য ক্যাডার
  • পরিবার পরিকল্পনা ক্যাডার

২. পেশাগত/কারিগরি (Technical/Professional) ক্যাডার

যেখানে নির্দিষ্ট বিষয়ে ডিগ্রি প্রয়োজন হয়।

উদাহরণ

  • শিক্ষা ক্যাডার
  • স্বাস্থ্য ক্যাডার
  • কৃষি ক্যাডার
  • প্রকৌশল ক্যাডার
  • প্রাণিসম্পদ ক্যাডার
  • মৎস্য ক্যাডার

বিসিএস পরীক্ষার ধাপসমূহ

বিসিএস পরীক্ষা সাধারণত ৩ ধাপে অনুষ্ঠিত হয়—


১. প্রিলিমিনারি পরীক্ষা

নম্বর: ২০০

সময়: ২ ঘণ্টা

এটি MCQ ভিত্তিক পরীক্ষা।

বিষয়সমূহ

বিষয়নম্বর
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য৩৫
ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য৩৫
বাংলাদেশ বিষয়াবলি৩০
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি২০
সাধারণ বিজ্ঞান১৫
কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি১৫
গাণিতিক যুক্তি১৫
মানসিক দক্ষতা১৫
নৈতিকতা ও সুশাসন১০
ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ১০

বৈশিষ্ট্য

  • নেগেটিভ মার্কিং আছে
  • প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.৫০ নম্বর কাটা যায়
  • এটি মূলত বাছাই পরীক্ষা

২. লিখিত পরীক্ষা

প্রিলিতে উত্তীর্ণরা লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেয়।

সাধারণ ক্যাডারের জন্য

মোট নম্বর: ৯০০

বিষয়নম্বর
বাংলা২০০
ইংরেজি২০০
বাংলাদেশ বিষয়াবলি২০০
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি১০০
গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা১০০
সাধারণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি১০০

টেকনিক্যাল ক্যাডারের জন্য

সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ওপর অতিরিক্ত বিষয় থাকে।


৩. মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা)

নম্বর: ২০০

এখানে যাচাই করা হয়—

  • ব্যক্তিত্ব
  • উপস্থিত বুদ্ধি
  • নেতৃত্বগুণ
  • দেশ ও আন্তর্জাতিক জ্ঞান
  • আচরণ ও আত্মবিশ্বাস

বিসিএসে আবেদনের যোগ্যতা

শিক্ষাগত যোগ্যতা

  • কমপক্ষে স্নাতক পাস
  • স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় হতে ডিগ্রি

বয়সসীমা (সাধারণ নিয়ম)

  • সাধারণ প্রার্থী: ২১–৩০ বছর
  • মুক্তিযোদ্ধা/প্রতিবন্ধী/ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী: ৩২ বছর

(সরকারি নীতির পরিবর্তনে বয়সসীমা পরিবর্তিত হতে পারে)


বিসিএসের সুবিধাসমূহ

১. সামাজিক মর্যাদা

বাংলাদেশে বিসিএস কর্মকর্তারা অত্যন্ত সম্মানজনক অবস্থানে থাকেন।

২. চাকরির নিরাপত্তা

সরকারি চাকরি হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা থাকে।

৩. বেতন ও সুযোগ-সুবিধা

  • সরকারি বেতন স্কেল
  • বাড়িভাড়া
  • চিকিৎসা সুবিধা
  • পেনশন
  • গাড়ি (কিছু ক্যাডারে)
  • বিদেশ প্রশিক্ষণ

৪. দেশসেবার সুযোগ

নীতিনির্ধারণ ও জনগণের সেবায় সরাসরি কাজ করার সুযোগ পাওয়া যায়।


জনপ্রিয় কিছু ক্যাডার

প্রশাসন ক্যাডার

জেলা প্রশাসন, মন্ত্রণালয়, উপজেলা প্রশাসন পরিচালনা করে।

পুলিশ ক্যাডার

আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করে।

পররাষ্ট্র ক্যাডার

বাংলাদেশের কূটনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে।

শিক্ষা ক্যাডার

কলেজ পর্যায়ে শিক্ষকতা করে।


বিসিএস প্রস্তুতির কৌশল

১. সিলেবাস ভালোভাবে জানা

BPSC সিলেবাস বুঝে পড়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

২. নিয়মিত পত্রিকা পড়া

বিশেষ করে—

  • জাতীয় সংবাদ
  • আন্তর্জাতিক ঘটনা
  • অর্থনীতি
  • সাম্প্রতিক তথ্য

৩. বাংলা ও ইংরেজিতে দক্ষতা বৃদ্ধি

লিখিত পরীক্ষায় এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৪. গণিত ও মানসিক দক্ষতা চর্চা

নিয়মিত অনুশীলন প্রয়োজন।

৫. উত্তর লেখার অভ্যাস

লিখিত পরীক্ষার জন্য বিশ্লেষণধর্মী লেখা জরুরি।


বিসিএসের চ্যালেঞ্জ

  • অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক
  • দীর্ঘ প্রস্তুতির প্রয়োজন
  • মানসিক চাপ
  • সীমিত পদসংখ্যা

বিসিএস ও বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামো

বিসিএস কর্মকর্তারা—

  • উপজেলা প্রশাসন
  • জেলা প্রশাসন
  • মন্ত্রণালয়
  • দূতাবাস
  • শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
  • আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দায়িত্ব পালন করেন।


বিসিএস পরীক্ষায় সফল হওয়ার কিছু পরামর্শ

১. দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নাও
২. প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় পড়ো
৩. বিগত বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করো
৪. নোট তৈরি করো
৫. আত্মবিশ্বাস ধরে রাখো
৬. মডেল টেস্ট দাও
৭. সময় ব্যবস্থাপনা শেখো



বিসিএস শুধু একটি চাকরি নয়; এটি রাষ্ট্র পরিচালনা ও জনসেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। যোগ্যতা, অধ্যবসায়, ধৈর্য ও সঠিক প্রস্তুতির মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী বিসিএসে সফল হতে পারে এবং দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


বিসিএস সম্পর্কিত বিস্তারিত আলোচনা -- মোঃ হেলাল উদ্দিন

Friday, July 8, 2022

যেভাবে পেশা নির্বাচন করবেন

বেশির ভাগ মানুষ তাদের পেশা নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় ভোগেন। অল্প কিছু মানুষই আছেন যারা নিজের নির্বাচন করা পেশা বা ক্যারিয়ার নিয়ে অনড় থাকেন। পেশা নির্বাচন করা নিয়ে কিছু ধারণা দেয়াওয়া হলো এ লেখার মাধ্যমে

পেশা নির্বাচনের আগে ভাবুন : শিক্ষার্থীরা অনেক ভাল রেজাল্ট করার পরেও খুব নিম্ন মর্জাদার পেশায় নিয়োজিত হন। আবার অনেকেই খেই হারিয়ে ফেলেন। কারণ তার পেশা নির্বাচন ভুল ছিলো। পেশা নির্বাচন করার আগে অন্তত এখন থেকে আরো ২০ বছর আগের এবং পরের অবস্থা নিয়ে চিন্তা করুন। নির্বাচন করার পর আর পরিবর্তন করা ঠিক নয়।

পেশা নির্বাচন হোক মাধ্যমিক থেকে :প্রাইমারি লেভেলের পড়াশোনা শুরুর দিকেই ক্যারিয়ার চিন্তা থাকা ভাল। কিন্তু তখন আপনার নিজের পরিপক্কতা না থাকায় এই বিষয়টি মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিকে নেওয়া যেতে পারে। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় পেশা নির্বাচন করে পড়াশোনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া উচিত্। এখান থেকেই শুরু হয় বিভাগ নির্বাচন। বিজ্ঞান, ব্যবসা, মানবিক। আপনি যে পেশায় যেতে চাচ্ছেন সে অনুযায়ী নির্বাচন করুন।

পছন্দের পেশাজীবীদের থেকে জানুন :যে পেশায় যাবেন বলে ঠিক করেছেন তাতে কেমন দায়িত্ব, তার ধারণা নিয়ে নিতে পারেন। সম্ভব হলে পেশা নির্বাচনের পর ঐ পেশার কারও সাথে এক বা দুই দিন কাজ করে দেখা যেতে পারে। এটা অনেক বেশি ফলপ্রসু। তখন পড়াশোনায় নিজেকে সাজিয়ে নেওয়া যায়। সিরিয়াসনেস হওয়া যায়।

আমাদের দেশের বেশিরভাগ শিক্ষার্থীদের প্রথম সারির পছন্দ হচ্ছে ডাক্তারি পড়া এবং ডাক্তার হওয়া। কিন্তু কেউই অন্তঃত একদিন ডাক্তারের সাথে সময় দিয়ে বুঝে দেখেননি কিভাবে একজন ডাক্তার কাজ করেন। শুধু নির্বাচন করাই শেষ নয়। আপনার সাথে কেমন হবে সেই পেশা তা দেখা উচিত্।

নিজেকে পেশার উপযোগী করে গড়ে তুলুন : আপনি নিশ্চয় পড়াশোনা করা শুরু করছেন নিজের নির্বাচন করা পেশাতে জায়গা পাবার জন্য। কিন্তু মনে রাখুন, কোনো পেশাই সফল হয় না যদি ভাল চর্চা না থাকে। পড়াশোনা, সাথে দরকার অভিজ্ঞতা।




৩৩ তম বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা

Saturday, August 21, 2021

পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করার ৯টি দারুণ কার্যকর টিপস

 

শিক্ষা জীবনের আসল ভয় পরীক্ষা। কতাই আছে  শিক্ষা জীবন বড়  সুখের জীবন  জদিনা থাকত  পরীক্ষা। আর বাকিটুকু অনেক মজার সময়। বন্ধু-বান্ধব, লেখাপড়া, আর  ঘুরে বেড়ানো, আড্ডা সবইকে  অনেক ভালো লাগে।  কিন্তু  মধ্যে রাজ্যের যতো টেনশন চলে আসে পরীক্ষার সময় এগিয়ে আসলে। তাই শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষজ্ঞ শিক্ষকদের ৯টি দারুণ পরামর্শ। বিশেষ পদ্ধতিতে পড়াশোনার কাজটি চালিয়ে গেলে পরীক্ষার সময় কাঁধে দুশ্চিন্তা ভর করবে না।

১. বিশেষ অংশ এবং পরিকল্পনায় রঙিন কোড করুন

লেখা-পড়ার অন্যতম কার্যকর ১ টি উপায় এটি। পড়ার কাজটি কীভাবে চালিয়ে যাবেন তার ১ টি  পরিকল্পনা  নিশ্চয়ই থাকে। এই অংশটিসহ নোটের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো রঙিন মার্কার দিয়ে চিহ্নিত করে রাখুন। ভিন্ন ধরনের অংশের জন্য বিভিন্ন রঙ ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ। যেমন- কুইজের অংশ গোলাপি, বিভিন্ন টেস্ট হালকা সবুজ, আন্ডার লাইনে  অংশ হালকা নীল ইত্যাদি। এই কালার কোড সিস্টেম গুছিয়ে লেখা-পড়া চালিয়ে যাওয়ার কার্যকর একটি উপায়।

২. সময় বের করুন

সেমিস্টারের আগের রাতে সব পড়ে শেষ করা অসম্ভব ব্যাপার। তাই বেশ কিছু দিন সময় বের করে রাখুন। অল্প সময়ের মধ্যে পড়ে পরীক্ষার ঝামেলা মেটানো যায়। কিন্তু সে পড়ায় শেখা হয় না। ফলে ভবিষ্যতে বিপদে পড়তে হবে। তাই বেশ কিছু দিন হাতে নিয়ে হালকা মেজাজে পড়লেও শিখতে পারবেন। এতে পরীক্ষা হয়ে আসবে আরো সহজ, এবং অনেক ভাল।

৩. শিক্ষকদের সাতে দেখা করুন

আপনার শিক্ষক কখনোই আপনাকে ফিরিয়ে দেবেন না। তাদের কয়েকজন ভীতিকর হতে পারেন। কিন্তু সবকিছুর শেষে তিনিই আপনার শিক্ষক। শেখা বা পরামর্শ নিতে তার কাছে গেলে তিনি তার শিক্ষার্থীকে বহু যত্নে শিখিয়ে দেবেন। আপনার সমস্যা মেটাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন যেকোনো শিক্ষক। কাজেই পরীক্ষা বিষয়ে পরামর্শ পেতে শিক্ষকদের দ্বারস্থ হন। তাহলেই ভাল রেজাল্ট করা সম্ভম।

৪. বইয়ে কি-পয়েন্ট হাইলাইট করুন?

অনেক ধরনের পরীক্ষা রয়েছে সেখানে বই দেখে পরীক্ষা দেওয়া যায়। এসব ক্ষেত্রে বইয়ের কি-পয়েন্টগুলো হাইলাইট করে নিন। আর বই দেখার সুযোগ না থাকলেও পড়াশোনার সুবিধার জন্য নিজের বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ মার্কার দিয়ে হাইলাইট করে রাখুন। সেগুলো বারবার দেখে নিতে সুবিধা হবে।

৫. স্লাইড শো বানিয়ে পড়া শুনা করুন

ডিজিটাল পদ্ধতিতে লেখাপড়া করুন। বিশেষ নোটগুলোকে কম্পিউটারে স্লাইড শো বানিয়ে পড়ুন। এতে মনে ভালোমতো ঢুকে যাবে সবকিছু।

৬. নিজের পরিকল্পনা বানিয়ে পড়া শুনা করুন

পড়াশোনাকে দারুণ কার্যকর করতে হলে পরিকল্পনা দরকার। পড়াশোনার, বিষয় আর পড়ার পদ্ধতি সবকিছু নিয়ে সময়সূচি করে নিন। তারপর সেই সময় অনুযায়ী পড়াশোনা চালিয়ে যান।

৭. নিজের  পরীক্ষা নিজেই  দিন

প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার মতো করে বন্ধুরা একসাতে বা আপনি একাই পরীক্ষা দিতে পারেন। এতে মূল পরীক্ষা নিয়ে যতো অজানা আশঙ্কা কেটে যাবে আপনার। অধিকাংশ  যে ক্ষেত্রে দেখা গেছে এসব পরীক্ষামূলক পরীক্ষা মূল পরীক্ষার কাছাকাছি হয়ে থাকে।

৮. একই পড়া কয়েকবার পড়ুন

কয়েকবার করে দেখে নিন। এতে মাথায় বসে যাবে সবকিছু। নোটের বিশেষ পয়েন্টগুলোতে চোখ বুলিয়ে নিন। বারবার মুখস্থ করতে হবে না। হাইলাট করা অংশগুলোতেও চোখ দিন। একবার মুখস্থ করে কয়েকবার শুধু দেখলেই তা ঠোঁটস্থ হয়ে যাবে।

৯. গড়িমসি করবেন না

যা পড়তে হবেই তা পড়ছি পড়বো বলে ফেলে রাখবেন না। অন্তত পরীক্ষা এগিয়ে এলে এমনটি করার সুযোগ নেই। এ কাজটির জন্যই পরীক্ষার আগের রাতে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। কাজেই অল্প-বেশি পড়ার কাজ চালিয়ে যান। দেখবেন, পরীক্ষা আগ দিয়ে প্রায় সব প্রস্তুতি গুছিয়ে এনেছেন আপনি।

 


মোঃ হেলাল উদ্দিন

শিক্ষক, লেখক এবং গবেষক

একজন আদর্শ শিক্ষকের বৈশিষ্ট্য এবং তা অর্জনের উপায় -- মোঃ হেলাল উদ্দিন

 

 

একজন আদর্শ শিক্ষকই জাতির মেধা গড়ার কারিগর। শিক্ষকের মেধাশ্রমই জাতির অমূল্য সম্পদ। তাই তাকে হতে হয় আর দশজন মানুষের তুলনায় সেরা। কেননা তাকে দেখেই শেখে আগামী প্রজন্ম। যদিও আদর্শ শিক্ষকের নির্দিষ্ট কোনো সংজ্ঞা দেয়া কঠিন, তবে বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা একজন আদর্শ শিক্ষকের মধ্যে লক্ষ করা যায়। তেমনই কিছু বৈশিষ্ট্য এবং এই বৈশিষ্ট্যগুলো কীভাবে নিজের মধ্যে গড়ে তোলা যায় সে বিষয়েই আলোচনা করা হয়েছে এই লেখায়।
১. একজন আদর্শ শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মাঝে আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তোলে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ‘Todd Whitaker’-এর লেখা ‘50 Ways to Improve Student Behaviour’- এ তিনি বলেছেন, একজন শিক্ষকের আদর্শ শিক্ষক হয়ে ওঠার পেছনে অন্যতম বাধা হচ্ছে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসের অভাব। তাঁর মতে:
• অনেক শিক্ষার্থী বিশ্বাস করে না যে তাদের শিক্ষকরা আসলে তাদের উপর বিশ্বাস করে।
• অনেক শিক্ষার্থী বিশ্বাস করে না যে তাদের বাবা-মা তাদের বিশ্বাস করে।
• অনেক শিক্ষার্থী বিশ্বাস করে না যে বড়রা তাদের বিশ্বাস করে।
• তাই অনেক শিক্ষার্থী নিজেরাই নিজেদের বিশ্বাস করে না।
• যে শিক্ষার্থীরা নিজেদের নিজেরা বিশ্বাস করে না তাদের আচরণগত ও একাডেমিক সমস্যা বেশি থাকে।
শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে শিক্ষকের করণীয়:
• নির্দিষ্ট একটি লক্ষ্য তৈরি করা- বছরের শুরুতেই যদি শিক্ষার্থীদের নিয়ে সারা বছরের জন্য একটি লক্ষ্য স্থির করা যায় তবে শিক্ষার্থীরা সুস্পষ্ট একটি ধারণা নিয়ে বছরটা শুরু করতে পারে। সঙ্গে তৈরি করতে হবে প্রতিটি ক্লাসে কী পড়ানো হবে সেটাও। নতুন একটি অধ্যায় বা বিষয় নিয়ে ক্লাস শুরুর সময় শিক্ষক যদি বলে, ‘আজ তোমরা গুণনের প্রথম ধাপটি শিখবে’ এবং ক্লাস শেষে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে বলে, ‘তোমাদের
অভিনন্দন
, এখন তোমরা তোমাদের মা-বাবাকে কীভাবে গুণতে শিখলে তা দেখাতে পারবে’! ‘শিক্ষকের মতো তারাও যে কাউকে শেখাতে পারে’, এই দৃষ্টিভঙ্গিটি যদি তাদের মাঝে তৈরি করা যায় তবে তাদের নিজেদের প্রতি আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে, সঙ্গে শিক্ষার মান এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনুপ্রেরণা বাড়বে।
• প্রতিনিয়ত আশ্বস্ত করা- শিক্ষার্থীর নিজের উপর আত্মবিশ্বাস বাড়াতে তাকে প্রতিনিয়ত বলতে হবে, ‘তোমার উপর আমার পূর্ণ বিশ্বাস আছে, হাল ছেড়ো না, আমি তোমার পাশে আছি’। শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করা এবং উৎসাহিত করার মাধ্যমে তাদের দারুণভাবে আত্মবিশ্বাসী করে তোলা যায়।
• প্রযুক্তির ব্যবহার- শিক্ষাবিষয়ক প্রযুক্তির ব্যবহার শিক্ষা প্রদান ও গ্রহণকে আরও আনন্দদায়ক ও কার্যকরী করে তুলতে পারে। এমনকি সবচেয়ে ভিতু ও ঘরকুনো স্বভাবের শিক্ষার্থীও নিজেকে খোলস থেকে বাইরে বের করে নিয়ে আসতে সহায়তা করে এই পদ্ধতি। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় গণিত শেখার গেম। শিক্ষার্থীদের যখন ব্ল্যাকবোর্ডে গণিত শেখানো হয় তখন অনেকেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলে, তবে সেই একই কাজ যদি ভিডিও গেমের মাধ্যমে শেখানো যায় তবে তা শিক্ষার্থীদের কাছে মজাদার ও আনন্দদায়ক করে তুলবে। এতে করে পিছিয়ে পড়া বা ভিতু শিক্ষার্থী যারা রয়েছে তাদের মনোবল ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।
২. একজন আদর্শ শিক্ষক আকর্ষণীয় ও কার্যকরভাবে শ্রেণিকক্ষ পরিচালনা করেন
একজন শিক্ষক অনেক জ্ঞানী হতে পারে, ক্লাসে পাঠদানের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে আসতে পারে এমনকি দুর্দান্ত বোঝানোর ক্ষমতাও তাঁর থাকতে পারে; কিন্তু আকর্ষণীয় ও কার্যকরভাবে শ্রেণিকক্ষ পরিচালনা করতে না পারলে সমস্ত অর্জনই তাঁর মাটি হয়ে যেতে পারে।
আকর্ষণীয় ও কার্যকর শ্রেণিকক্ষ গড়ে তুলতে শিক্ষকের করণীয়:
• ক্লাসের নিয়মকানুনগুলো নির্ধারণ করা- একে অপরের প্রতি কীভাবে আচরণ করবে, নিরাপদ পরিবেশ বজায় থাকবে কীভাবে বা ক্লাসে কীভাবে অংশগ্রহণ করবে; এসব বিষয়ে নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরামর্শ করে একটি নিয়ম তৈরি করা যায়। যেমন-
১. শিক্ষকের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনব।
২. দলে কাজের সময় সবার মতামত শুনব।
৩. অন্যের মতের সাথে একমত না হলে ভদ্রভাবে যুক্তি দিয়ে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করব।
৪. দলে সক্রিয় অংশগ্রহণ করব।
৫. কিছু বলার আগে হাত তুলব।
৬. সবার সাথে ভালো ব্যবহার করব এবং সদ্ভাব বজায় রাখব।
৭. আমার খাতায় আমার কথা বা চিন্তা নিজেই লিখব।
৮. সবাই একসাথে কথা বলব না, একজন বলার পর অন্যজন বলব।
৯. সবাইকে দলের কাজ উপস্থাপন করার এবং অংশগ্রহণ করার সুযোগ দেব।
১০. শান্তি বজায় রাখব যাতে সবাই সবার কথা শুনতে পায়।
১১. দলের কাজ পরিচালনায় একে অন্যকে সহযোগিতা করব ইত্যাদি।
সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা ধীরে ধীরে নিজেদের সেই নিয়মের প্রতি দায়বদ্ধ ভাবতে শুরু করবে। ফলে কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরি হলে তারা শিক্ষক বা অন্য সহপাঠীদের উপর দ্বায় না চাপিয়ে নিজেদের দ্বাই করবে এবং নিজে নিজে তা সমাধানের চেষ্টা করবে।
• শ্রেণিকক্ষে ক্যাপটেইন নির্বাচন করা- শ্রেণিকক্ষে ক্যাপটেন বা শ্রেণিনেতা নির্বাচন করার গুরুত্ব অনেক। তবে কয়েকদিন পর পর (হতে পারে প্রতি পনের দিন পর বা প্রতি মাসে) নতুন শ্রেণিনেতা নির্বাচন করা উচিত। নতুবা একজন বেশিদিন নেতৃত্ব দিলে তার মধ্যে অহমিকা এসে যেতে পারে। তাছাড়া অন্যরা নেতৃত্ব দেয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে। পালাক্রমে নেতৃত্ব দিলে সকল শিশুর মধ্যেই নেতৃত্বের গুণাবলি তথা আন্তঃব্যক্তিক বুদ্ধিমত্তা বিকশিত হবে।
তাছাড়া, মাঝে মাঝে ক্লাসে শিক্ষার্থীদের বসার জায়গা পরিবর্তন করে বসানো, যেমন- সামনের বেঞ্চে যারা বসেছে তারা পেছনে এবং পেছনে যারা বসেছে তারা সামনে বসবে। পাঠের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শ্রেণিকক্ষের বাইরে নিয়েও পাঠদান করানো যেতে পারে। শিক্ষক ক্লাসে যখন প্রশ্ন করবে তখন প্রশ্নটি উপস্থিত সকল শিক্ষার্থীকে উদ্দেশ্য করে করতে হবে। অধিক শিক্ষার্থী সংবলিত শ্রেণিকক্ষে একই রকম একাধিক সেট শিক্ষা উপকরণ ব্যবহার করা যেতে পারে।
শিক্ষক যদি শিক্ষাদান কার্যক্রমের জন্য উপযুক্ত পদ্ধতি ও কৌশল নির্বাচনে ব্যর্থ হন অথবা উপযুক্ত পদ্ধতি নির্বাচন করলেও যথার্থভাবে প্রয়োগে ব্যর্থ হন, তবে শিক্ষাদান প্রক্রিয়া সার্থক ও কার্যকর করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। কাজেই শিক্ষক যদি পাঠদানের সকল পদ্ধতি বা কৌশল এবং প্রয়োগকৌশল খুব ভালোভাবে জেনে তা যথার্থভাবে প্রয়োগ করতে পারে, তবেই শ্রেণিকক্ষকে আকর্ষণীয় ও কার্যকর করে তোলা সম্ভব হবে।
৩. একজন আদর্শ শিক্ষক সবসময় প্রস্তুত থাকেন
সময় ব্যবস্থাপনা ও ক্লাস নেওয়ার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে আসা একজন ভালো শিক্ষকের বড় গুণ।
কার্যকরী প্রস্তুতি অর্জনের জন্য শিক্ষকের করণীয়:
• বিষয়বস্তু সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান- শিক্ষক যা পড়াবেন সে সম্পর্কে তার সুস্পষ্ট জ্ঞান থাকা বাঞ্ছনীয়। শিক্ষকের প্রস্তুতির ব্যাপারে InTASC-এর মূল নীতিগুলোর মধ্যে অতি গুরুত্বপূর্ণ তিনটি স্তর হচ্ছে:
১. জ্ঞান- যা পড়াবেন তা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান থাকতে হবে।
২. স্বভাব- একজন শিক্ষক সুন্দর স্বভাবের অধিকারি হবে।
৩. ক্রিয়াকলাপ- শিক্ষাদান পদ্ধতির মধ্যে বৈচিত্র্য থাকতে হবে। বইয়ের বাইরে থেকেও ব্যাখ্যা দিয়ে, বাস্তব বিষয় বা বস্তুর সঙ্গে উদাহরণ দিয়ে শিক্ষার্থীদের বুঝাতে হবে।
• ‘Yale Center for Teaching and Learning’-এর মতে শ্রেণিকক্ষ পরিচালনার ক্ষেত্রে একজন শিক্ষকের যেসব বিষয়ে প্রস্তুতি থাকা উচিত:
১. পড়া এবং সমস্যা সেট করা।
২. প্রতি সপ্তাহের লেকচার নোট তৈরি করা ।
৩. ক্লাসের সময়কে সর্বোচ্চ কার্যকরী করে তুলতে পরিকল্পনা করা।
৪. ক্লাসে ব্যবহার করতে বা বোর্ডে লিখতে প্রশ্নের তালিকা তৈরি করা।
৫. শিক্ষার্থীদের পরবর্তী ক্লাসের জন্য হোমওয়ার্ক বা প্রশ্ন নকশা করা।
৬. ক্লাসের জন্য কুইজ তৈরি করা।
৭. শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ, সমস্যা বা আগ্রহের বিষয়গুলো বুঝতে চেষ্টা করা।
৮. বিতর্কের জন্য বিষয় নির্বাচন ও পর্যালোচনা করা।
৯. খবরের কাগজ বা অন্যান্য জায়গা থেকে শিক্ষা সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য শিক্ষার্থীদের মাঝে পৌঁছে দেওয়া।
৪. একজন আদর্শ শিক্ষক সর্বদা নিয়মানুবর্তিতা বজার রাখেন
জীবনের সর্বস্তরে তথা সামাজিক, পারিবারিক কিংবা রাষ্ট্রীয়; সকল ক্ষেত্রেই নিয়মানুবর্তী হওয়া অত্যাবশ্যক। মানব জীবনে নিয়মানুবর্তিতা বা শৃঙ্খলার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে M. K. Gandhi বলেছেন, -
‘Discipline maintains system,
System maintain development,
Development vibrates human-life,
So discipline must be followed.’
নিয়মানুবর্তিতা চর্চায় শিক্ষকের করণীয়:
• নিয়ম-শৃঙ্খলা যথার্থরূপে পালন করে চলা- শিক্ষকের কাছে শিক্ষার্থী শুধু বইয়ের পড়াই শেখে না; তাঁর আচার-ব্যবহার, কথা বলার ভঙ্গিসহ প্রায় সব কিছুই শিক্ষার্থীরা অনুসরণ-অনুকরণ করার চেষ্টা করে। তাই একজন শিক্ষকের খুব সতর্কতার সঙ্গে নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্যে থাকা উচিত।
• অতিরঞ্জিত ও আড়ম্বরতা বিবর্জিত কঠোরতা- শিক্ষার্থীদের অবশ্যই শাসন করতে হবে; তবে খেয়াল রাখতে হবে যাতে সেই শাসন বা কঠোরতায় আড়ম্বরতা বা অতিরঞ্জিত কোনো আচরণ প্রকাশ না পায়।
• শিক্ষার্থীদের ভুলের কারণে রোষান্বিত বা ঈর্ষান্বিত না হওয়া- শিক্ষার্থীদের ভুলের কারণে কোনোভাবেই রোষান্বিত বা ঈর্ষান্বিত হওয়া উচিত নয়। তাহলে সেখানে ব্যক্তিগত আক্রোশ প্রকাশের সম্ভাবনা তৈরি হয়।
• শিক্ষার্থীদের মাঝে ন্যায়বিচার বজায় রাখা- মানবিকতা ও নৈতিকতা বজায় রাখতে শিক্ষার্থীদের মাঝে অবশ্যই ন্যায়বিচার বজায় রাখার চেষ্টা করতে হবে। বিচারের ক্ষেত্রে কখনোই পক্ষপাতিত্ব করা উচিত হবে না।
৫. একজন আদর্শ শিক্ষক সর্বদা অভিভাবক, পরিবার এবং সমাজের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখেন
বিদ্যালয়ের পাশাপাশি সমাজে একজন ইতিবাচক ব্যক্তি হিসেবে নিজের ভাবমূর্তি তৈরি করার জন্য শিক্ষকের ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা থাকা জরুরি। পিতা-মাতা, অভিভাবক, পরিবার কিংবা সমাজ; সব জায়গাতেই পেশাগত ও ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক বজায় রাখার মাধ্যমেই একজন শিক্ষক সবার মাঝে আদর্শ শিক্ষক হয়ে উঠতে পারেন।
সুসম্পর্ক বজায় রাখতে শিক্ষকের করণীয়:
• শিক্ষার্থীদের পিতা-মাতা বা অভিভাবকের প্রতি সম্মান এবং ভদ্রতা প্রদর্শন করার মাধ্যমে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা যায়।
• শিক্ষার্থীদের শিক্ষা এবং উন্নয়নকে প্রভাবিত করে এমন সিদ্ধান্তসমূহ নেয়ার সময় অভিভাবকের মতামতকে বিবেচনায় রাখা, শিক্ষার্থীদের উন্নয়ন ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে অভিভাবকদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রক্ষা করা বা অভিভাবকদের অভিযোগকে আমলে নিয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করার মাধ্যমে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব।
• শিক্ষকদের শিক্ষার্থীদের পরিবার এবং সমাজের সঙ্গে সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি।
• শিক্ষার্থীরা ভিন্ন ভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশ, অবস্থান কিংবা পরিবার থেকে এসে থাকে; কাজেই এ বিষয়টি শিক্ষকগণ অনুধাবন করবেন। শিক্ষার্থীদের পরিবার এবং সমাজের সঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষকদের সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ করার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া উচিত।
যদিও আদর্শ শিক্ষকের নির্দিষ্ট কোন সংজ্ঞা বা মাপকাঠি নেই; তবু সাধারণ কিছু বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করে শিক্ষকরা নিজেদের সম্পর্কে প্রাথমিক একটি ধারণা অর্জন করতে পারেন অথবা নতুন শিক্ষকরা নিজেদের আদর্শ শিক্ষক হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সাহায্য নিতে পারেন। Jeffrey Glanz-এর গবেষণার উপর ভিত্তি করে তাঁর লেখা ‘Teaching 101: Classroom Strategies for the Beginning Teacher’-এ নতুন শিক্ষকদের দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য ৮টি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে একটি প্রশ্নের তালিকা তৈরি করেছেন-
১. আপনি যে বিষয়বস্তু শেখাচ্ছেন তার উপর আপনার কি সুস্পষ্ট ধারণা রয়েছে?
২. আপনি কি শিক্ষাদান পদ্ধতি, শেখার পদ্ধতি এবং পাঠ্যক্রম পদ্ধতি সম্বন্ধে সুস্পষ্ট ধারণা রাখেন?
৩. আপনি কি নিজেকে ভালোভাবে জানেন?
৪. আপনি কি অপরের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখেন?
৫. আপনি কি বিচিত্র, চিন্তাভাবনামূলক প্রশ্ন করতে পছন্দ করেন?
৬. আপনি কি সবসময় নির্দেশনার কাজের পরিকল্পনা করেন?
৭. শ্রেণিকক্ষ পরিচালনা এবং কার্যকর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আপনি কি সফল?
৮. আপনি কি ভালো যোগাযোগকারী?
যদি আপনার উত্তর ‘হ্যাঁ’ হয় তবে আপনি সঠিক পথেই আছেন, আর যদি ‘না’ হয় তবে চেষ্টা করুণ নিজেকে আরও দক্ষ করে তুলতে।


একজন আদর্শ শিক্ষকের বৈশিষ্ট্য এবং তা অর্জনের উপায় 

স্বপ্ন যখন প্রাথমিক শিক্ষক হওয়া,যেভাবে স্বপ্নকে সত্যি করে তুলতে পারেন

 

প্রাথমিকে সাড়ে ৩২ হাজারের অধিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দিবেন সরকার। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় সরকারি চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি।

কর্তৃপক্ষ শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেডে বেতন স্কেল উন্নীত করায় এ পদে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবীদেরও আগ্রহ বেড়েছে।

প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা পদ্ধতি

প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার মোট ১০০ নম্বর । এর মধ্যে লিখিত (এমসিকিউ) পরীক্ষায় ৮০নম্বর,আর মৌখিক পরীক্ষায় ২০ নম্বর।লিখিত পরীক্ষায় পাস করলে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হবে।

মৌখিক পরীক্ষায় টিকলে যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত নিয়োগ দেয়া হবে।যে মোবাইল নম্বরটি দিয়ে আবেদন করেছেন, সেই নম্বরেই সকল আপডেট পাবেন। তাই সেই অবশ্যই নম্বরটি সচল রাখতে হবে।

যেভাবে এমসিকিউ পরীক্ষা হবে

বিষয়ভিত্তিক বহু নির্বাচনী বা এমসিকিউ পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেয়া হবে । বিষয়গুলো হচ্ছে  ইংরেজি-২০,বাংলা-২০,গণিত-২০, সাধারণ জ্ঞান+বিজ্ঞান+কম্পিউটার-২০। প্রত্যেকটি বিষয় থেকে ২০টি করে মোট ৮০টি বহু নির্বাচনী প্রশ্ন থাকবে।

কোন কোন বিষয় থেকে ২-৩টা প্রশ্ন কম-বেশি থাকতেই পারে। প্রতিটি প্রশ্নের উত্তরের জন্য  ১ নম্বর। প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর করে কেটে নিবে অর্থাৎ ৪টি ভুল উত্তরের জন্য প্রাপ্ত নম্বর থেকে ১ নম্বর কেটে নেয়া হবে।

তাই কোন প্রশ্নের উত্তর নিশ্চিত না হয়ে উত্তর দেয়া উচিত হবে না।সতর্কতার সাথে বৃৃত্ত ভরাট করতে হবে। ৮০ মিনিট বা ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট লিখিত(এমসিকিউ) পরীক্ষার জন্য বরাদ্দ।

আপনি প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দেয়ার জন্য  সময় পাবেন ১ মিনিট, যা অন্যান্য সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষার তুলনায় সময় একটু বেশি। তবে শুরুতেই জানা উত্তরগুলোর বৃত্ত ভরাট করে ফেলতে হবে।

একটি প্রশ্নে আটকে গেলে তার জন্য বেশি সময় নষ্ট না করে পরবর্তী প্রশ্নে চলে যেতে হবে। অনুমাননির্ভর উত্তরের চেয়ে না দাগানোই ভালো। আপনাকে প্রতিটি বিষয়ের জন্য আলাদাভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে।

এবারে প্রার্থী কম কিন্তু প্রতিযোগিতা বেশি

গতবারের তুলনায় এবার প্রার্থী অনেক কম।এ বছর সারা দেশে ১৩ লক্ষের মতো প্রার্থী আবেদন করেছেন, গতবার এ সংখ্যা ছিল প্রায় ২৬ লক্ষ। এ বছর আবেদনের যোগ্যতা হিসেবে নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই কমপক্ষে ২য় শ্রেণির স্নাতক পাস চাওয়া হয়েছে।তাই গতবছরের তুলনায় আবেদন কম পড়েছে।

তবে ১৩তম গ্রেডে বেতন স্কেল উন্নীত হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবীদেরও আগ্রহ বেড়েছে। তাই অনুমান করা যায়, প্রার্থী তুলনামূলক কম থাকলেও প্রতিযোগিতা কঠিনই হবে। এ বিষয়টি মাথায় রেখেই প্রস্তুতির ছক ঠিক করতে হবে।

 বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগের উদ্দেশ্যে কর্তৃপক্ষ বিশেষ করে গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ের কথা চিন্তা করে ২০ শতাংশ পদে বিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রিধারী প্রার্থীকে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, আগের মতোই ৬০ শতাংশ নারী, ২০ শতাংশ পোষ্য এবং ২০ শতাংশ পুরুষ প্রার্থী নিয়ে পদগুলো পূরণ করা হবে।

তাই বিজ্ঞান ছাড়া অনান্য বিষয়ে স্নাতক করা প্রার্থীদের প্রতিযোগিতায় টিকতে হলে একটু বেশিই পড়াশোনা করতে হবে।

উপজেলাভিত্তিক প্রতিযোগিতা হবে

নিজ উপজেলাভিত্তিক এই নিয়োগ হবে। তাই সারা দেশের প্রার্থীদের কথা ভেবে ভয় পেয়ে লাভ নেই। নিজ উপজেলার প্রার্থীদের সাথে প্রতিযোগিতায় লড়তে হবে।

ধারণা করা যায়, আপনি যদি এমসিকিউ পরীক্ষায় ৮০-র মধ্যে ৬০ পান, তাহলে পাসের ক্ষেত্রে বলা যায় ৫০ শতাংশ নিশ্চিত আর যদি ৭০ শতাংশ পান তাহলে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত!

নিজ উপজেলার প্রার্থীদের পরীক্ষার ওপর তবে বিষয়টি নির্ভর করবে । নারীদের জন্য এটা একটা বড় সুবিধা। এই চাকরির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো একজন নারী তাঁর পরিবারকে অনেক বেশি সময় দিতে পারবেন।

যেভাবে নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি নিবেন

বাজারে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্নপত্র সমাধান বা জব সলিউশন প্রস্তুতির জন্য পাবেন। ভালো মানের কোনো একটি জব সলিউশন সংগ্রহ করে নিয়মিত অনুশীলন করুন। তার মধ্যে শুরুতে আমি বলব, বিগত বছরের প্রশ্নগুলো ব্যাখ্যাসহ পড়ে ফেলুন।

এটার ফলে আপনার প্রশ্নের ধরন সম্পর্কে ধারণা হবে। বাজারের ভালো মানের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ সহায়িকা বই সংগ্রহ করে একদম শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বুঝে বুঝে পড়ুন।

বাজারের অনেক বইয়ের মধ্যে কোনটি পড়বেন—এ নিয়ে অনেকের প্রশ্ন। তাঁদের জন্য পরামর্শ হলো, যেসব বইয়ে বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি, বিগত বছরের প্রশ্ন ও এর ব্যাখ্যা রয়েছে, সে বইগুলো কিনবেন।

কিছু বইয়ে মডেল টেস্ট পাবেন। সেগুলো ঘড়ি ধরে বাসায় প্র্যাকটিস করলে পরীক্ষার হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সব প্রশ্ন উত্তর করার চর্চাটা হয়ে যাবে, যেটা ভীষণ দরকার।

যাঁদের গণিতের বেসিক শক্তিশালী নয়, তাঁরা পঞ্চম শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত গণিত বইগুলো বুঝে বুঝে অনুশীলন করতে পারেন।

এতে বেসিক শক্তিশালী হবে, পাশাপাশি অনেক প্রশ্নই পরীক্ষায় হুবহু কমন পেতে পারেন! সফল হওয়ার জন্য অনিয়মিত বেশি পড়ার চেয়ে নিয়মিত অল্প পড়াও ভালো। নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমেই একজন মানুষ সফল হয়। তাই প্রতিদিন অল্প সময়ের জন্য হলেও বই নিয়ে পড়তে বসুন।

আপনার প্রস্তুতির রুটিন কেমন হবে

সময়, বিষয় ও নিজের সুবিধা মাথায় রেখে রুটিন তৈরি করে ফেলুন। একজনের রুটিন আরেকজনের জন্য প্রযোজ্য নাও হতে পারে।

কেননা আপনিই জানেন আপনার কখন পড়তে ভালো লাগে, কোন কোন বিষয়ে আপনার দুর্বলতা, অনান্য প্রয়োজনীয় কাজ করে কতটুকু সময় পড়ার জন্য বের করতে পারেন।

তবে যেহেতু গণিত ও ইংরেজি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আর এ দুটি বিষয়েই অনেকের দুর্বলতা থাকে, তাই গণিত ও ইংরেজিতে প্রতিদিন কমপক্ষে ২+২ ঘণ্টা সময় দিয়ে একটা রুটিন বানিয়ে ফেলতে পারেন।

আর অন্যান্য বিষয় মিলে আরো ২-৩ ঘণ্টা। এভাবে দিনে সব মিলিয়ে ৫-৬ ঘণ্টা পড়ার সময় রুটিনে রেখে পড়ালেখা করতে পারলে প্রস্তুতি পাকাপোক্ত করা সম্ভব হবে।



শিক্ষক, লেখক এবং গবেষক

Monday, April 5, 2021

শিক্ষার্থী ও গ্রাজুয়েটদের জন্য ১৫ পরামর্শ

১. নেটওয়ার্কিং
যত বেশি সম্ভব লোকের সাথে পরিচিতি হোন। আপনি জানেন না কে, কখন ও কিভাবে আপনার উপকারে আসে।

২. পরামর্শদাতা
একজন নির্ভরযোগ্য পরামর্শদাতা খুঁজে নিন এবং তার কাছাকাছি থাকুন।

৩. সেলস
এই অপরিহার্য দক্ষতাটি অর্জন করুন। তরুণদের উচিত প্রথম চাকরি বা কাজ হিসেবে সেলসকে বেছে নেয়া।

৪. যোগাযোগ ও উপস্থাপনা
আয়ত্ব করুন এবং যত দ্রুত সম্ভব এক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠতর হয়ে উঠুন।

৫. নেতৃত্ব ও দলগত কাজ (LEADERSHIP & TEAMWORK)
দুটি জিনিসই অনুশীলন ও উপভোগ করুন।

৬. ভাষা
বিদেশী ভাষা শিখুন। ইংরেজি, আরবি, চাইনিজ, জাপানিজ, টার্কিশ ইত্যাদি।

৭. স্বেচ্ছাসেবা
স্বেচ্ছাসেবার ভিত্তিতে বিভিন্ন সামাজিক কাজে অংশ নিন।এটি সমাজে আপনার একটি ইতিবাচক অবস্থান তৈরি করবে।

৮. সিভি ও লিংকডিন অ্যাকাউন্ট
খুব গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত আপডেট রাখুন দুটিই।

৯. অনুষ্ঠান
বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিন। যত বেশি সম্ভব। এটি দুর্দান্ত এক দক্ষতা। নতুন নতুন মানুষের সাথে মিশুন, শুধু সহকর্মীদের সাথে নয়।

১০. স্কলারশিপ
বিভিন্ন স্কলারশিপের জন্য আবেদন করুন। পড়াশোনার জন্য বাইরে যান। এটা আপনর জীবন পরিবর্তন করে দেবে।

১১. অনলাইন কোর্স
শিক্ষা জীবনব্যাপী। অনুসন্ধিৎসু হোন। প্রতিনিয়ত নতুন কিছু শিখুন। এক্ষেত্রে বিভিন্ন বিষয়ে অনলাইন কোর্স করতে পারেন।

১২. ইন্টার্নশিপ
টাকা না পেলেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করুন।এটা আপনার যোগ্যতা ও দক্ষতাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

১৩. আবিষ্কার করুন
নিজের সাথে নিজে চ্যালেঞ্জ নিন।জানুন আপনি কে? কী হতে চান?

১৪. সুপারিশপত্র
আপনার শিক্ষক, সহকর্মী বা নেতাদের থেকে সুপারিশপত্র বা রেফারেন্স লেটার সংগ্রহ করুন।

১৫. চাকরি
এরপর চাকরি পেতে অন্তত ৫০০ জায়গায় আবেদন করুন। ধৈর্য ধরুন। প্রথমে শিখুন তারপর কাজে জয়েন করুন।
শুভ কামনা আপনার জন্য।

 




 শিক্ষার্থী ও গ্রাজুয়েটদের জন্য ১৫ পরামর্শ

Monday, February 15, 2021

পরীক্ষায় ভালো করার মূল চাবিকাঠি

 

জীবনটা হচ্ছে একটা বৃক্ষ। একে সাজাতে হয় বিভিন্ন ভাবে। সুশোভিত করতে হয় ফুলে -ফলে। চাই চেষ্টা ও সাধনা। ছাত্র (ছাত্র ও ছাত্রী উভয়কে) পরীক্ষা হচ্ছে এমনি এক চেষ্টা বা সাধনার সিঁড়ি। এ পার হতে অনেকে চিন্তিত ও হতাশ। তাই পরীক্ষায় ভাল রেজাল্ট করার কিছু পথ-পদ্ধতি, দিকনির্দেশনা নিচে আলোচনা করা হলঃ

পরীক্ষা পূর্ব প্রস্তুতিঃ

১। পড়ার কৌশলঃ ছাত্র-ছাত্রীরা হল অধ্যয়ণ জগতের কারিগর। কিভাবে পড়লে ভাল করা যাবে এটা তাদের নিজেদের আবিষ্কার করতে হবে। একটানা বসে না পড়ে দাঁড়িয়ে পড়ার অভ্যাস করতে হবে। মাঝে মাঝে হাঁটা-হাঁটা করে নিতে হবে। এতে করে পড়ায় মন বসবে।

২। পাঠে মনোযোগঃ পড়ার টেবিলে নিখিল বিশ্বের চিনাত ভাবনা ছেড়ে দিয়ে মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে। অনেক বষয় নিয়ে চিন্তা আসতে পারে, কিন্তু এটা এ মুহূর্তে আমার কাজ নয় বলে মনকে বোঝাতে হবে।

৩। বুঝে পড়াঃ শুধু তোতা পাখির মত না বুঝে মুখস্থ করলে তা কখনোই স্থায়ী হবে না। চিত্র থাকলে তা মিল করে পড়তে হবে।     

৪। সময় নির্ধারণঃ সময় হল বিশ্বের দ্রুততম মানবের জুতার মত। এটার যথাযথ মূল্যায়ণ না দিলে সাফল্য কোনদিন আসবে না। বেশি রাত না জেগে ভোরে উঠে পড়া উত্তম।

৫। প্রশ্ন নির্বাচনঃ পাঠ্য বইয়ের প্রত্যেকটা বিষয়ের উপর যথেষ্ট ধারণা রাখার চেষ্টা করতে হবে। শয়নে-স্বপনে এর ধ্যান করতে হবে। তবে পরীক্ষায় ভাল করার জন্য বিশেষ কিছু প্রশ্নের উপর থাকতে হবে অসাধারণ দখল। তাই বলে এই নয় যে পরীক্ষায় ভাল করলেই সব হয়ে গেল। এখন ভিত কাচা হলে পরে সাফল্য অসম্ভব হয়ে পড়বে। আর শেষ ভাল যার সব ভাল তার।

৬। মুখস্থ করার কৌশলঃ কিছু বিষয় আছে যা সর্বদা মুখস্থ রাখতে হয়। এক্ষেত্রে যদি কোন কিছুর সাথে সাদৃশ্য করা যায় তবে তা ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। যেমন- “মিছাইল মানব” বলা হয় ‘আবুল কালাম আজাদ‘ কে। আপনার ভাইয়ের নাম ধরুন আজাদ। তখন তার সাথে এই তথ্যের মিল করে পড়তে পারেন।

৭। স্থান নির্ধারণঃ শান্ত নিরিবিলি পরিবেশ মানিসিক স্বাস্থের জন্য ভাল। তাই পড়ার স্থানটা এমন হলে খুবই ভাল হয়। যদি এটা সম্ভব না হয় তবে পারিবারিক সাহায্য একান্ত কাম্য হবে।

৮। নির্ভুল লেখাঃ বাসায় বসে বারংবার লিখে নিজেকে যাচাই করে নিতে হবে। লেখা ভুল হবে তখনই যখন আপনি তা লিখে অভ্যস্ত নন। সুতরাং নির্ভুল লেখার একমাত্র শর্ত বারবার অনুশীলন।

৯। নোট তৈরিঃ নিজে নোট তৈরি করে পড়ার কোন বিকল্প নেই। নিজে কষ্ট করে কিছু করলে সেটা একদিকে যেমন বোঝা যায় তেমনি মনেও থাকে। তাই নিয়মিত নোট তৈরি করা ভাল ফলাফল সহজতর হয়।

১০। আল্লাহর সাহায্য কামনাঃ প্রতি ওয়াক্ত নামজের শেষে মহান আল্লাহর সাহায্য কামনা করতে হবে।

১১। শরীরের প্রতি যত্নবান হওয়াঃ নিজের শরীরের দিকে সবস্ময় খেয়াল রাখতে হবে। শরীর ভাল না থাকলে কিছুই সম্ভব নয়।

১২। ঘুমঃ পর্যাপ্ত ঘুম স্বচ্ছ মেধার মূলকথা। প্রতিদিন ৬-৮ ঘণ্টা ঘুমান একান্ত জরুরি।

পরীক্ষার প্রস্তুতিঃ

১। পরীক্ষার হলে যা যা লাগবে তা আগে থেকে টেবিলের পাশে ঠিক করে রাখতে হবে।

২। পরীক্ষার হলে আধা ঘণ্টা আগে পৌঁছতে হবে।

৩। হলে যা যা পূরণ করা দরকার তা খেয়াল করে করতে হবে। যতই ভাল পরীক্ষা দেওয়া হোক না কেন যদি তথ্যে ভূল থাকে তবে ফলাফল আসবে না বা ভূল আসবে।

৪। কোন প্রশ্ন আগে লিখবেন তা আগে ভাবে নিন। কারণ আপনি কেমন পারদর্শী তা পরীক্ষক আপনার প্রথম লেখা উত্তর দেখে ধারণা পাবেন।

৫। রিভিশনঃ খাতা যাতে একবার রিভিশন দেওয়া যায় সেদিকে খেয়াল রাখবেন। তাড়া হুড়োর মাঝে অনেক কিছুই ভূল যাওয়াটা অস্বাভাবিক নয়।

৬। মাথা ঠাণ্ডা রেখে পরীক্ষা দিন। তাহলে ভূল কম হবে।

৭। সুন্দর লেখাঃ সুন্দর চিরজীবন সুন্দর। আপনার লেখা সুন্দর হলে তা আপনাকে কিছু অতিরিক্ত নম্বর পেতে সহায়তা করতে পারে।

৮। সময় নির্ধারণঃ কোন প্রশ্নের জন্য কতটুকু লিখবেন তা বলে দেবে ডান পাশের নম্বর বিন্যাস। মনে রাখবেন, হলে সময় নষ্ট করা মানে নিজের পায়ে কুড়াল মারা।

৯। কাটা কাটিঃ কাটা কাটি করা মানে পরীক্ষকের বিরাগভাজন হওয়া। সুতরাং এটা পরিহার করা বাঞ্চনীয়।

১০। পরীক্ষায় অসৎ উপায় একদম অবলম্বন করবেননা।

পরীক্ষার ফলাফল আপনার জীবনের মোড় বদলে দিতে পারে। তাই এ নিয়ে কোন অবহেলা একটা শিক্ষার্থীর কাছে কারো কাম্য নয়।

 

  (মোঃ হেলাল উদ্দিন, ৩৩ তম বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা)