Showing posts with label গবেষণা পদ্ধতি ও পরিসংখ্যান. Show all posts
Showing posts with label গবেষণা পদ্ধতি ও পরিসংখ্যান. Show all posts

Monday, September 19, 2022

গুণগত গবেষণা পদ্ধতি

গুণগত গবেষণা
যেসব গবেষণায় গাণিতিক সংখ্যা ভিত্তিক গবেষণার তথ্যাদির প্রকাশ ও ব্যাখ্যা বিশ্লেষন করা যায় না বরং গবেষক সে ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক চেতনা পদ্ধতির কৌশলের প্রয়োগ করে থাকেন তাদেরকে গুণগত গবেষণা ( Qualitative Research) বলা হয়। অর্থাৎ গাণিতিক সংখ্যা ছাড়া বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তথ্যাদির সংগ্রহ,ব্যাখ্যা,বিশ্লেষণ এবং ফলাফল প্রদান করা হয় যেসব গবেষণায় তাদেরকেই গুণগত গবেষনা বলা হয়ে থাকে। কেউ কেউ আবার এদেরকে মানসন্মত গবেষণা হিসেবেও আখ্যায়িত করেন।
এ সকল গবেষণায় সকল উপাদান, ব্যক্তি, তথ্যাদি,ফলাফল, অনুমিত সিদ্ধান্ত,চূড়ান্ত মূল্যায়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কখনই গাণিতিক সংখ্যার প্রয়োগ করা হয়নি। এক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি, কৌশল এবং কার্যধাপের আনুশীলন করা হয়ে থাকে। অত্যন্ত সতর্কতার সাথে এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী গুণগত গবেষণা করা হয়। গুণগত গবেষনার সমস্যা নির্বাচন,উদ্দেশ্য গঠন,পদ্ধতি নির্বাচন, তথ্য বিশ্লেষণ,ফলাফল তৈরি প্রভৃতি সব ধরনের কাজই করা যায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে। বিভিন্ন অভীক্ষার জন্য তথ্য সংগ্রহকারী উপকরণ তৈরি করা,তথ্য সংগ্রহ করে তা বিশ্লেষণও করা হয় এ গবেষণায়।
 
গুণগত গবেষণার কিছু উপকরণ
বর্তমানে সব ধরনের পরিস্থিতে গুণগত গবেষণার চাহিদা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সৃষ্টি হচ্ছে এর ব্যবহার, উপকরণ,নতুনত্বের সংযোজন। গুনগত গবেষণায় বহুবিদ উপকরনের ব্যবহার করা হয়। নিম্নে গু্ণগত গবেষণার কিছু উপকরনের নাম উল্লেখ করা হলো।
১। প্রশ্ন গুচ্ছ বা অভীক্ষা( Test)
২. প্রশ্নমালা ( Questionnaie)
৩. গবেষণার পদ্ধতি ও কৌশল( Research Method & Technique)
৪. সাক্ষাৎকার সিডিউল ( Interview Seheduke)
৫. বই,খাতা, কলম,পেন্সিল (Teaching Aids)
৬. যন্ত্রপাতি (Tools)
৭. কম্পিউটার/ ল্যাপটপ (Computer / Laptop)
৮. মাল্টিমিডিয়া(Multimedia)
 
গুনগত গবেষণার ব্যবহারিক গুরুত্ব/ সুবিধা
১.গুণগত গবেষণায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির পরিপূর্ণ ব্যবহার করা সম্ভব।
২. গাণিতিক সংখ্যার/ পরিসংখ্যানিক ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণের প্রয়োজন হয় না।
৩. গবেষণার প্রাপ্ত ফলাফলের ওপর বিশ্বাসযোগ্যতা অনেক বেশি থাকে।
৪. গাণিতিক সংখ্যার ব্যবহার না করেই পরিপূর্ণ গবেষণা করা সম্ভব।
৫. গবেষণা কর্মকাণ্ড বাস্তব চাহিদা নির্ভর।
৬. গুণগত গবেষণায় বিষয়ের প্রতি বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
৭. মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী ফলাফল পাওয়া যায়।
৮. বাস্তবতার নিরিখে গুণগত গবেষণার প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি।
৯.বৈজ্ঞানিক কৌশলোর অনুসরণ করা যায়।
১০.বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার করা যায়।
১১.তথ্য প্রযুক্তি কাজে প্রয়োগ করা যায়।
১২. এটি গবেষক অংশগ্রহণমূলক চেতনার বাস্তবায়ন করে।
১৩। দক্ষতা নির্ভর চেতনায় প্রয়োগ করা।
 
গুণগত গবেষণার সীমাবদ্ধতা/ অসুবিধা
১.গুণগত গবেষণায় তথ্য সংগ্রহ, ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ গাণিতিক সংখ্যায় করা সম্ভব না।
২. সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা অনেক সময় কষ্টসাধ্য হয়।
৩.ঐতিহাসিক বা পরীক্ষণীয় চেতনা তেমন আসে না।
৪. পরিসংখ্যানিক ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করা যায় না।
৫ গবেষককে সম্পূর্ণভাবে বৈজ্ঞানিক চেতনার উপর নির্ভরশীল হতে হয় যেখানে নিজেস্ব দর্শন আসে কম।
 
উপসংহার 
বাস্তবতার নিরিখে গুণগত গবেষনার প্রয়োজনীয়তা নেক বেশি।এর মাধ্যমে গবেষণার নির্ভর যোগ্য তথ্যাদি প্রাপ্ত হয় । এটি কল্যাণকর গবেষণা চাহিদা নির্ভর বিধায় দিনে দিনে এর প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে।তাই এ গবেষণা কার্যক্রমে বিভিন্নভাবে বিভিন্ন গবেষক মনোনিবেশ করছে।
 

৩৩তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডার কর্মকর্তা

Tuesday, September 13, 2022

গবেষণা পদ্ধতিঃ উপাত্ত নির্বাচন, সংগ্রহ, ও বিশ্লেষণ

 

গবেষণা পদ্ধতিঃ উপাত্ত নির্বাচন, সংগ্রহ, ও বিশ্লেষণ

 

1. গবেষণা পদ্ধতি কি?

গবেষণা পদ্ধতি (Research Methodology) হল নির্দিষ্ট পদ্ধতি বা কৌশল যা একটি বিষয় সম্পর্কে তথ্য সনাক্ত, নির্বাচন, প্রক্রিয়া এবং বিশ্লেষণ করতে ব্যবহৃত হয়।  

গবেষণা পদ্ধতি হল আপনি যেভাবে আপনার গবেষণা চালাতে চান, তার একটি সুসংগঠিত নিয়ম। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকে ডেটা সংগ্রহের পদ্ধতি, পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ, অংশগ্রহণকারীদের পর্যবেক্ষণ ইত্যাদির মতো বিষয়গুলো।

গবেষণা পদ্ধতির উদ্দেশ্য হল আপনার গবেষণার পদ্ধতির পিছনে যুক্তি ব্যাখ্যা করা, আপনার ডেটা সংগ্রহের পদ্ধতি, বিশ্লেষণের পদ্ধতি এবং আপনার কাজের অন্যান্য মূল বিষয়গুলোকে সমর্থন করা।

উদাহরণস্বরূপ, একজন গবেষক, তাঁর গবেষণাকর্ম পরিচালনায় নিম্মোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে।

 

1.২ গুণগত, পরিমাণগত, এবং মিশ্র গবেষণা পদ্ধতি

তিনটি ভিন্ন ধরণের গবেষণা পদ্ধতি রয়েছে যেমন,

১.2.1 গুণগত গবেষণা

যে গবেষণার প্রয়োজনীয় উপাত্ত সরাসরি পর্যবেক্ষণ, সাক্ষাৎকার, প্রশ্নমালা, ফোকাস গ্রুপ, আলোচনা ইত্যাদি পদ্ধতির মাধ্যমে সংগ্রহ করে তা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করা হয়, যার সব ই অ-গাণিতিক বা অপরিমাপযোগ্য, তাকে গুণগত গবেষণা বলে। গুণগত গবেষণা সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণা ধারার সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতি। 

গুণগত গবেষণা করা হয় মূলত কোনো কিছু সম্পর্কে নতুনভাবে জানতে, তুলনা করতে বা কখনো কখনো সম্পর্ক নির্ণয়ের জন্য। গুণগত গবেষণার ফলাফল গাণিতিক উপায়ে বা পরিসংখ্যানভাবে প্রকাশ করা যায় না।

1.২.2 পরিমাণগত গবেষণা

যে গবেষণায় ব্যবহৃত উপাত্ত সবসময় সংখ্যাসূচক হয় এবং যা গাণিতিক ও পরিসংখ্যাগত পদ্ধতি ব্যবহার করে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করা হয় তাকে পরিমাণগত গবেষণা বলে।

পরিমাণগত গবেষণা একটি গবেষণা পদ্ধতি যা পরিসংখ্যানগত, যৌক্তিক এবং গাণিতিক কৌশল ব্যবহার করে সংখ্যাসূচক তথ্য তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়। এটি বিশেষ করে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় বা সমস্যা সমাধান করতে ব্যবহৃত গবেষণা পদ্ধতি।

1.2.৩. মিশ্র গবেষণা

এই পদ্ধতি উপরের উভয় পন্থাকে (গুণগত ও পরিমাণগত) একত্রিত করে ডেটা বিশ্লেষণ করা হয়। পরিমাণগত পদ্ধতি আপনাকে কিছু নির্দিষ্ট তথ্য এবং পরিসংখ্যান প্রদান করবে, যেখানে গুণগত পদ্ধতি আপনার গবেষণাকে একটি আকর্ষণীয় মানবিক দিক প্রদান করবে।

 

1.3 গবেষণা পদ্ধতি

১.3.1. কোন ডেটা সংগ্রহ করতে হবে? (গবেষণায় এটিকে ডেটা টাইপ বা কোন ধরণের উপাত্ত ব্যবহার হবে তা নির্দেশ করে। উদাহরণস্বরুপ: প্রাথমিক ডেটা, মাধ্যমিক ডেটা, গুণগত ডেটা, এবং পরিমাণগত ডেটা ইত্যাদি)।

1.3.২. কার কাছ থেকে এটি সংগ্রহ করতে হবে? (গবেষণায় এটিকে ‘স্যাম্পলিং ডিজাইন’ বলা হয়)

1.৩.3 কিভাবে এটি সংগ্রহ করতে হয়? (এটিকে ‘ডেটা সংগ্রহ পদ্ধতি’ বলা হয়)

1.3.৪. কিভাবে এটি বিশ্লেষণ করবেন? (এটিকে ‘ডেটা বিশ্লেষণ পদ্ধতি’ বলা হয়)

 

2. উপাত্ত সংগ্রহ পদ্ধতি

গবেষণায় উপাত্ত (Data) ও তথ্য (Information) সংগ্রহের অনেকগুলো পদ্ধতি রয়েছে। নিম্মে বিভিন্ন পদ্ধতি আলোচনা করা হল,

ক. সাক্ষাৎকার (গ্রুপ আকারে বা একের পর এক): আপনি বিভিন্ন উপায়ে সাক্ষাৎকার নিতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, আপনার সাক্ষাৎকার কাঠামোগত, আধা-কাঠামোগত বা অসংগঠিত হতে পারে। পার্থক্য হল সাক্ষাৎকারকারীকে জিজ্ঞাসা করা প্রশ্নগুলোর সেটটি কতটা আনুষ্ঠানিক। একটি গ্রুপ সাক্ষাৎকারে, আপনি সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীদের নির্দিষ্ট বিষয়ে তাদের মতামত বা উপলব্ধি দেওয়ার জন্য জিজ্ঞাসা করতে পারেন।

খ. সমীক্ষা (অনলাইন বা ব্যক্তিগতভাবে): জরিপ বা সমীক্ষা গবেষণায় আপনি এমন প্রশ্ন উত্থাপন করবেন, যাতে জরিপে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তির কাছ থেকে যথাযথ প্রতিক্রিয়া পান।

গ. ফোকাস গ্রুপ: উপরের গ্রুপ ইন্টারভিউয়ের মতো, আপনি প্রদত্ত উত্তরগুলোর একটি নোট তৈরি করার সময় একটি নির্দিষ্ট বিষয় বা মতামত নিয়ে আলোচনা করার জন্য একটি ফোকাস গ্রুপকে জিজ্ঞাসা করতে পারেন।

ঘ. পর্যবেক্ষণ: মানুষের আচরণের দিকে তাকিয়ে থাকেন, তবে এটি গবেষণায় ব্যবহার করার জন্য একটি ভাল গবেষণা পদ্ধতি। এই গবেষণার বিভিন্ন উপায়ে অংশগ্রহণকারীদের তাদের দৈনন্দিন জীবনে স্বতঃস্ফূর্ত আচরণের অধ্যয়ন অন্তর্ভুক্ত। পর্যবেক্ষণ হল একটি নির্দিষ্ট সময় এবং স্থানে পরিচালিত গবেষণা, যেখানে গবেষকরা পরিকল্পনা অনুযায়ী আচরণ পর্যবেক্ষণ করেন।

 

৩. তথ্য বিশ্লেষণ পদ্ধতি

গবেষণার উদ্দেশ্যে সংগ্রহীত তথ্যসমূহের সংকেতায়ন, বিন্যাস, শ্রেণি সরলীকরণ ও ব্যাখ্যাকরণের প্রক্রিয়াকেই তথ্য বিশ্লেষণ বলা হয়। জরিপ, জনসংখ্যাগত তথ্য, অভীক্ষণের ফলাফল পর্যবেক্ষণ, সাক্ষাৎকার, নথি, ব্যক্তির কথোপকথন, জার্নাল, দিনপঞ্জি ইত্যাদি হতে পারে তথ্যের ও উপাত্তের মূল উৎস। গবেষণায় উপাত্ত সংগ্রহের পর সবচেয়ে কঠিন কাজ হচ্ছে এগুলো বিশ্লেষণ করা। উপাত্তের সঠিক বিশ্লেষণের দ্বারাই কার্যকরী গবেষণা সম্পন্ন হতে পারে। 

উপাত্ত বিশ্লেষণের জন্য প্রয়োজন ধৈর্য, সতর্কতা, নিষ্ঠা ও বিশ্লেষণী মন। এর জন্য কিছু সাধারণ পদ্ধতি ও ধাপ অনুসরণ করতে হয়। উপাত্ত বিশ্লেষণের লক্ষ্য হলো অনুমিত সিদ্ধান্ত যাচাইকরণ এবং প্রস্তাবিত সমস্যার কাঙ্ক্ষিত সমাধান। উপাত্ত বিশ্লেষণের কিছু পদ্ধতি রয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু পদ্ধতি হলো: 

ক. পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি : তথ্যের প্রকৃতি, অবস্থা ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাই।

খ. অন্তদর্শন পদ্ধতি : এ পদ্ধতিতে গবেষক তথ্য বিশ্লেষণে তার পূর্ব অনুমানের ভিত্তিতে প্রাপ্ত তথ্যকে যাচাই করেন এবং অন্তদর্শনের মাধ্যমে সাজিয়ে শ্রেণিকরণ ও বিশ্লেষণ করে থাকেন।

গ. পরীক্ষণ পদ্ধতি : পরীক্ষার মাধ্যমে প্রাপ্ত ফলাফলকে ধরে রাখা হয় আর সংগৃহীত অবান্তর তথ্য আপনা আপনি বাতিল হয়ে যায়।

ঘ. পরিসংখ্যান পদ্ধতি : গবেষণার জন্য প্রাপ্ত তথ্যকে পরিসংখ্যান বিষয়ের আলোকে সজ্জিত, একত্রিত ও বিন্যাস করা।

উপাত্ত বিশ্লেষণের কিছু ধাপ রয়েছে। উপাত্ত পাঠ, প্রকৃতি চিহ্নিতকরণ, শ্রেণিকরণ ও বিন্যাস, উৎস ও গ্রহণযোগ্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্টকরণ, সংগঠন ও উপস্থাপক, ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ, বিশ্লেষণ প্রাপ্ত তথ্য একত্রিতকরণ, প্রাপ্ত তথ্যসমূহের মাধ্যমে অনুমিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, অনুমিত সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে সাধারণ সিদ্ধান্তের দিকে অগ্রসর হওয়া ইত্যাদি। এ ধাপগুলো স্বতঃসিদ্ধ নয় তথাপি এগুলো সর্বাধিক ব্যবহৃত হয়।

 


গবেষণা পদ্ধতিঃ উপাত্ত নির্বাচন, সংগ্রহ, ও বিশ্লেষণ 

-- মোঃ হেলাল উদ্দিন

গবেষণার বিভিন্ন প্রকারভেদ

 

গবেষণার বিভিন্ন প্রকারভেদ

 

১. তথ্যের উৎস অনুসারে গবেষণার দুই ধরণের। যথা-

১.1 প্রাথমিক গবেষণা (Primary Research)

সরাসরি উৎস থেকে উপাত্ত সংগ্রহ করে যে গবেষণা পরিচালনা করা হয় তাকে প্রাথমিক গবেষণা বলে। একে মৌলিক গবেষণাও বলা হয়। প্রাথমিক উৎস থেকে এই গবেষণার উপাত্তগুলো সংগৃহীত হয়। প্রাথমিক গবেষণার উপাত্ত সংগ্রহ সাক্ষাৎকার, প্রশ্নপত্র, পর্যবেক্ষণ ইত্যাদির মাধ্যমে সম্পাদিত হতে পারে।

1.২ মাধ্যমিক গবেষণা (Secondary Research)

মাধ্যমিক গবেষণা প্রাথমিক গবেষণার ঠিক বিপরীত। সেকেন্ডারি গবেষণা হলো সেই তথ্য যা ইতিমধ্যেই প্রাথমিক উৎসের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে। যে প্রক্রিয়ায় কোনো উদ্দেশ্যকে কেন্দ্র করে বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতিতে মাধ্যমিক উৎস যেমন- বই, সাময়িকী, প্রকাশিত গবেষণাপত্র, সরকারি রেকর্ড, সংবাদপত্র, নথি, চিত্র, ভিডিও প্রতিবেদন ইত্যাদি থেকে উপাত্ত নিয়ে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করে নতুন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয় তা হলো মাধ্যমিক গবেষণা।

যে গবেষণায় তথ্য সহজলভ্য উৎস থেকে প্রাপ্ত হয় তা গৌণ বা মাধ্যমিক গবেষণা। যেহেতু, পাওয়া তথ্য ইতিমধ্যে বিশ্লেষণ এবং ব্যাখ্যা করা হয়েছে, সেহেতু গবেষককে কেবল তার পছন্দের ডেটা সেখান থেকে বের করতে হয়। এ-ধরনের গবেষণায় সময়, অর্থ কম লাগে।

গবেষক সরকারী সংস্থা, সমিতি, বই, জার্নাল, মিডিয়া ইত্যাদি উৎস থেকে তথ্য ব্যবহার করে। এসকল সংগৃহীত তথ্য প্রাথমিকভাবে ম্যাগাজিন, পুস্তিকা, সংবাদপত্র, ব্লগ, ওয়েবসাইট, জার্নাল, রিপোর্ট, এনসাইক্লোপিডিয়া এবং উইকিপিডিয়া ইত্যাদিতে প্রকাশিত হয়।

 

2 উদ্দেশ্য অনুসারে গবেষণা দুই ধরণের, যথা-

2.1 তাত্ত্বিক গবেষণা (Theoretical Research)

তাত্ত্বিক বা মৌলিক গবেষণা হল বিশ্বাস এবং অনুমানের একটি পদ্ধতিগত যৌক্তিক অনুসন্ধান। তাত্ত্বিক গবেষণা বা মৌলিক গবেষণার উদ্দেশ্য হলো নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করা।

যে বিষয়ে পূর্বে কখনো গবেষণা হয়নি অথবা পূর্বে গবেষণা করা হয়েছে কিন্তু সেখানে বিশেষ পরিবর্তন বা নতুন কিছু সংযোজনের জন্য যে গবেষণা পরিচালিত হয় তা হল তাত্ত্বিক গবেষণা।

২.2 ফলিত গবেষণা (Applied Research)

ফলিত গবেষণা বলতে বৈজ্ঞানিক অধ্যয়নকে বোঝায় যা মূলত দৈনন্দিন ব্যবহারিক সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে। উদাহরণস্বরূপ, এটি দৈনন্দিন সমস্যার সমাধান, অসুস্থতা নিরাময় এবং উদ্ভাবনী প্রযুক্তি বিকাশের জন্য ব্যবহৃত হয়।

যে গবেষণার মাধ্যমে তাত্ত্বিক গবেষণা থেকে প্রাপ্ত জ্ঞানকে বাস্তবক্ষেত্রে প্রয়োগের উপায় খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হয় তাকে ফলিত গবেষণা বলে। ফলিত গবেষণার উদ্দেশ্য হলো তাত্ত্বিক গবেষণালব্ধ প্রাপ্ত জ্ঞানের বাস্তবিক প্রয়োগ।

 

3 ব্যবহার করা উপাত্ত অনুসারে গবেষণা দুই ধরণের। যথা-

3.১ গুণগত গবেষণা (Qualitative Research)

যে গবেষণার প্রয়োজনীয় উপাত্ত সরাসরি পর্যবেক্ষণ, সাক্ষাৎকার, প্রশ্নমালা, ফোকাস গ্রুপ আলোচনা ইত্যাদি পদ্ধতির মাধ্যমে সংগ্রহ করে তা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করা হয় যার সব ই অ-গাণিতিক বা অপরিমাপযোগ্য তাকে গুণগত গবেষণা বলে। গুণগত গবেষণা সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণা ধারার সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতি। 

গুণগত গবেষণা করা হয় কোনো কিছু সম্পর্কে নতুনভাবে জানতে, তুলনা করতে বা কখনো কখনো সম্পর্ক নির্ণয়ের জন্য। গুণগত গবেষণার ফলাফল গাণিতিক উপায়ে বা পরিসংখ্যানভাবে প্রকাশ করা যায় না।

3.২ পরিমাণগত গবেষণা (Quantitative Research)

যে গবেষণায় ব্যবহৃত উপাত্ত সবসময় সংখ্যাসূচক হয় এবং যা গাণিতিক ও পরিসংখ্যাগত পদ্ধতি ব্যবহার করে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করা হয় তাকে পরিমাণগত গবেষণা বলে।

 

4. গবেষণার ক্ষেত্র ও গভীরতা অনুসারে গবেষণা চার ধরনের-যথা:

4.১ অনুসন্ধানী গবেষণা (Exploratory Research)

অনুসন্ধানমূলক গবেষণা হল এমন একটি সমস্যা অনুসন্ধান করার প্রক্রিয়া যা অতীতে অধ্যয়ন করা হয়নি বা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করা হয়নি। এই ধরনের গবেষণায় প্রাথমিক উপাত্ত ও মাধ্যমিক উপাত্ত উভয়ই ব্যবহার কার হয়।

পূর্বের কোনো গবেষণা হতে প্রাপ্ত জ্ঞান সু-স্পষ্টভাবে বোঝা না গেলে অথবা তা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে না পারলে, উক্ত বিষয়ের ওপর স্পষ্ট ধারণা অর্জন ও তার সঠিক ব্যবহার জানার জন্য যে বিজ্ঞানভিত্তিক ধারাবাহিক অনুসন্ধান প্রক্রিয়া পরিচালিত হয় তাকে অনুসন্ধানী গবেষণা বলে। কোনো বিষয়ের ওপর পূর্বে পর্যাপ্ত গবেষণা পরিচালিত না হলেও সেক্ষেত্রে অনুসন্ধানী গবেষণা করা যায়।

4.২ বর্ণনামূলক গবেষণা (Descriptive Research)

সমাজবিজ্ঞান গবেষণা শাখায় বহুল পরিচিতি একটি গবেষণা হলো বর্ণনামূলক গবেষণা। এতে নির্দিষ্ট সময়, ঘটনা, বিশ্বাস, প্রবণতা, প্রতিক্রিয়া, দৃষ্টিভঙ্গি ইত্যাদি বিষয়ের ওপর বর্ণনা করা হয়। বর্ণনামূলক গবেষণায় অনেক সময় পর্যাপ্ত উপাত্ত সংগ্রহ এবং অনুসন্ধান না করেই ফলাফল প্রদান করা হয়।

4.৩ ব্যাখ্যামূলক গবেষণা (Explanatory Research)

যে গবেষণার মাধ্যমে কোনো কিছু গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে তার কারণ ও প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যার মাধ্যমে প্রকাশ করা হয় তাকে ব্যাখ্যামূলক গবেষণা বলে। বর্ণনামূলক গবেষণাকে ভিত্তি করেই ব্যাখ্যামূলক গবেষণার উৎপত্তি। আধুনিক গবেষণায় বর্ণণামূলক গবেষণা অন্যতম।

৪.4 সম্পর্কযুক্ত গবেষণা (Correlational Research)

যে বৈজ্ঞানিক গবেষণার মাধ্যমে একাধিক চলকের মধ্যে সম্পর্ক চিহ্নিত করা হয় তা হলো সম্পর্কযুক্ত গবেষণা। পারস্পরিক সম্পর্কীয় গবেষণা একটি অ-পরীক্ষামূলক গবেষণা পদ্ধতি যা পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণের সাহায্যে দুটি ভেরিয়েবলের মধ্যে সম্পর্ক নির্দেশ করতে ব্যবহার হয়।

 

5. পারস্পরিক সম্পর্কীয় গবেষণার ধরন তিন ধরনের, যথা-

5.1 ইতিবাচক পারস্পরিক সম্পর্ক (Positive correlation): দুটি ভেরিয়েবলের মধ্যে একটি ইতিবাচক সম্পর্ক যখন একটি ভেরিয়েবলের বৃদ্ধি অন্য ভেরিয়েবলের বৃদ্ধির দিকে নিয়ে যায়। একটি ভেরিয়েবলের হ্রাস অন্য ভেরিয়েবলের হ্রাস দেখতে পাবে। উদাহরণস্বরূপ, একজন ব্যক্তির যে পরিমাণ অর্থ আছে তা ব্যক্তির মালিকানাধীন গাড়ির সংখ্যার সাথে ইতিবাচকভাবে সম্পর্কযুক্ত হতে পারে।

5.2 নেতিবাচক সম্পর্ক (Negative correlation): একটি নেতিবাচক সম্পর্ক আক্ষরিক অর্থে একটি ইতিবাচক সম্পর্কের বিপরীত। একটি ভেরিয়েবলের বৃদ্ধি হলে, দ্বিতীয় চলকটি বিপরীতে হ্রাস দেখাবে।

5.3 পারস্পরিক সম্পর্ক নেই (No correlation): এটি দুটি ভেরিয়েবলের মধ্যে কোন সম্পর্ক নির্দেশ করে না। অর্থাৎ একটির পরিবর্তনে অন্য একটির পরিবর্তন হয় না। উদাহরণস্বরূপ, কোটিপতি হওয়া এবং সুখের কোন সম্পর্ক নেই। অর্থ বৃদ্ধি সবসময় সুখের দিকে পরিচালিত করে না।

 


 গবেষণার বিভিন্ন প্রকারভেদ

মোঃ হেলাল উদ্দিন

Monday, September 12, 2022

গবেষণা প্রস্তাব কি? গবেষণা প্রস্তাব লেখার নিয়ম

গবেষণা প্রস্তাব কি

গবেষণা প্রস্তাব হলো গবেষকের সম্ভাব্য গবেষণা পদ্ধতির একটি বিবরণ। এটির মাধ্যমে রিসার্চার তার গবেষণায় কী নিয়ে গবেষণা করবে, কেন তা গুরুত্বপূর্ণ এবং কিভাবে গবেষণা কার্য পরিচালিত হবে তার বর্ণনা থাকে।

গবেষণা প্রস্তাব মূলত স্পনসরশিপের জন্য করা হয়। প্রস্তাবের মধ্যে গবেষণার ব্যয়, সময়, এবং সম্ভাব্য ফলাফল মূল্যায়নের একটি ইঙ্গিত দেওয়া থাকে। গবেষণা প্রস্তাবটি যখন স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী করবে, তখন এর শব্দের সংখ্যা সাধারণত ২ হাজার থেকে ৩ হাজারের মধ্যে রাখতে হয় এবং পাতার সংখ্যা ৪-৭ হওয়া বাঞ্চনীয়।

তবে এটি যদি উচ্চতর গবেষণা বা পিএইচডির জন্য তৈরি করার জন্য হয়, তখন গবেষনা প্রস্তাবের শব্দে সংখ্যা এবং পাতার সংখ্যা একটু বেশি হওয়া দরকার।

গবেষণা প্রস্তাব লেখার পদ্ধতি

 প্রাথমিকভাবে গবেষণা প্রস্তাবে মোট তিনটি মৈালিক অংশ থাকে।

১. আখ্যানপত্র (Title Page)  ও সূচিপত্র (Content) 
২. প্রস্তাবনার বিভিন্ন দিক। এটি গবেষণা প্রস্তাবের মূল অংশ।
৩. গ্রন্থপঞ্জি বা তথ্যপঞ্জি

প্রথমত, টাইটেল পেজ বা আখ্যানপত্র হলো গবেষণা প্রস্তাবের প্রথম পৃষ্ঠা। এর মধ্যে থাকবে,

  • গবেষণা প্রকল্পের প্রস্তাবিত শিরোনাম
  • গবেষকের নাম
  • সুপারভাইজারের নাম
  • গবেষকের প্রতিষ্ঠান ও বিভাগ
  • প্রস্তাবের তারিখ

দ্বিতীয়ত, গবেষণা প্রস্তাবের মূল অংশে শিরোনাম থেকে শুরু করে উপসংহার পর্যন্ত যাবতীয় বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকে। 

গবেষণা প্রস্তাবের মূল অংশে

একটি গবেষণা প্রস্তাবের মূল অংশে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো বিন্যাস করা থাকে।

১. শিরোনাম (Title)
২. ভূমিকা (Introduction)
৩. পটভূমি এবং তাৎপর্য (Background and Significance)
৪. সমস্যা বিবরণ (Statement of the problem)
৫. গবেষণার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য (Research objectives and purpose)
৬. গবেষণাপত্র পর্যলোচনা (Literature Review)
৭. পরিধি এবং সীমাবদ্ধতা (Scope and Limitation)
৮. গবেষণা পদ্ধতি (Methodology)
৯. বাজেট (Budget)
১০. উপসংহার (Conclusion)

তৃতীয়ত, গবেষণা প্রস্তাবের একেবারে শেষ অংশে থাকে একটি গ্রন্তপঞ্জি বা তথ্যপঞ্জি (Bibliography)।


 

 গবেষণা প্রস্তাব কি? গবেষণা প্রস্তাব লেখার নিয়ম

মোঃ হেলাল উদ্দিন

Sunday, September 11, 2022

জরিপ গবেষণা কি? জরিপ গবেষণার পদ্ধতি ও বৈশিষ্ট্য

জরিপ গবেষণা কি

জরিপ গবেষণা হল সমীক্ষা বা জরিপের মাধ্যমে পরিচালিত একটি পদ্ধতিগত তদন্ত। এটি উত্তরদাতাদের কাছ থেকে জরিপ পরিচালনার মাধ্যমে তথ্য অনুসন্ধানে পরিচালিত এক ধরনের গবেষণা।

জরিপ গবেষণা হল সাক্ষাৎকার, কাগজে, ফোনে, এবং অনলাইনে ব্যক্তিদের প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করে প্রাপ্ত তথ্য সংগ্রহ করার প্রক্রিয়া। এটি প্রাথমিক গবেষণার একটি রূপ, যা প্রাথমিক উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে। সংগৃহীত তথ্য পরবর্তীকালে সেকেন্ডারি গবেষণায় ব্যবহৃত হতে পারে। জরিপ গবেষণায় বিভিন্ন প্রেক্ষাপট এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে লোকেরা কী ভাবছে তা খুঁজে বের করার একটি দুর্দান্ত পদ্ধতি হিসাবে কাজ করে।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, একটি রেস্তোরাঁর মালিক তার নতুন কাস্টমারদের থেকে খাবারের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া সংগ্রহ করে। এটি করার মাধ্যমে, রেস্তোরাঁটি গ্রাহকদের (উত্তরদাতাদের) কাছ থেকে নতুন খাবার সম্পর্কে তারা কী ভাবছে এবং কী অনুভব করে সে সম্পর্কে প্রাথমিক ডেটা সংগ্রহ করতে সক্ষম হচ্ছে। গ্রাহকদের থেকে প্রাপ্ত তথ্য পরবর্তীতে তাদের খাবারের মান উন্নত করতে এবং রেস্তোরার মান বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

 

জরিপ গবেষণা পদ্ধতি

জরিপ গবেষণা বিভিন্ন অনলাইন, মুখোমুখি সাক্ষাৎকার এবং মোবাইলের মাধ্যমে করা যেতে পারে।

১. টেলিফোনে জরিপ

এটি ফোন কলের মাধ্যমে জরিপ গবেষণা পরিচালনার একটি মাধ্যম। একটি টেলিফোন জরিপে, গবেষক উত্তরদাতাদের একটি কল করেন এবং বিবেচনাধীন গবেষণার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করে তাদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন। যাইহোক, এই পদ্ধতির গবেষণার প্রধান চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে রয়েছে যে, এটি ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ।

২. অনলাইন জরিপ

বর্তমানে অনলাইন জরিপ খুবই জনপ্রিয় হয়ে ওঠছে। কারণ, এতে জরিপের জন্য একটি প্রশ্ন কাঠামো প্রণয়ন করে নির্দিষ্ট ব্যক্তির নিকট অনলাইনে পাঠিয়ে তার থেকে উত্তর বা তথ্য সংগ্রহ করা সহজ। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করেও অনলাইন জরিপ করা যায়।

৩. মুখোমুখি সাক্ষাৎকার

জরিপ গবেষণার জন্য সাক্ষাৎকার গবেষণার প্রেক্ষাপট এবং আপনি যে ধরণের ডেটা সংগ্রহ করতে চান তার উপর নির্ভর করে কাঠামোগত, আধা-কাঠামোগত বা অসংগঠিত হতে পারে। আপনি যদি গুণগত তথ্য সংগ্রহ করতে চান, তাহলে অসংগঠিত এবং আধা-কাঠামোগত সাক্ষাৎকার করা উচিত।

অন্যদিকে, আপনি যদি আপনার গবেষণার নমুনা থেকে পরিমাপযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করতে চান তবে একটি কাঠামোগত সাক্ষাত্কার পরিচালনা করাই সর্বোত্তম উপায়। যদিও, মুখোমুখি সাক্ষাৎকার সময়সাপেক্ষ এবং ব্যয়বহুল। তবে, সামনাসামনি জরিপ ডেটা সংগ্রহের সর্বাধিক ব্যবহৃত পদ্ধতিগুলোর মধ্যে একটি।

 

জরিপ গবেষণার বৈশিষ্ট্য

  • জরিপ গবেষণা বেশিরভাগই সামাজিক বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে বিভিন্ন সামাজিক প্রেক্ষাপটে মানুষের আচরণ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে।
  • অন্যান্য গবেষণা পদ্ধতির মতো, জরিপ গবেষণা একটি পদ্ধতিগত অনুসন্ধান প্রক্রিয়া। এর মানে হল যে এটি সাধারণত পরীক্ষামূলক পদ্ধতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হয় এবং নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করে।
  • জরিপ গবেষণা বিভিন্ন ফর্ম ব্যবহার করে যেমন অফলাইন, অনলাইন বা কাঠামোগত, আধা-কাঠামোগত, এবং অসংগঠিত সাক্ষাত্কারের মাধ্যমে পরিচালিত হতে পারে।
  • জরিপ গবেষণা থেকে সংগৃহীত ডেটা বেশিরভাগ পরিমাণগত। যদিও এটা গুণগত হতে পারে।
  • জরিপ গবেষণায় প্রাপ্ত ডেটা এলোমেলো বা বিক্ষিপ্ত থাকে।
  • জরিপ গবেষণা প্রায়ই বাস্তব-বিশ্বের ঘটনা থেকে প্রাপ্ত ডেটা নমুনা ব্যবহার করে।
     জরিপ গবেষণা কি?
    জরিপ গবেষণার পদ্ধতি ও বৈশিষ্ট্য

Sunday, February 28, 2021

একটি ভালো রিসার্চ পেপার লেখার জন্য আপনি কোন কোন স্টেপ ফলো করবেন? অবশ্যই জানুন!

যারা ইতিমধ্যেই গবেষণা শেষ করে ফেলেছেন বা শেষ করার পথে তারা একটি ভাল গবেষণা পত্র কিভাবে লিখবেন, সেটা অবশ্যই জানেন। কিন্তু সমস্যা হল নতুন দেরকে নিয়ে, যারা গবেষনায় ঢুকবেন বা ঢোকার চেষ্টা করছেন। আজ আমরা জানব, একটি ভালো গবেষণা পত্র লেখার জন্য কি কি স্টেপ আপনি ফলো করবেন। কোনো পেপার লিখতে গেলে প্রথমেই মাথাতেই প্রশ্ন আসে ফরম্যাটিং কিভাবে করবো, রেফারেন্স কিভাবে দেব, কি কি সেকশন রাখবো, ফুটনোট কিভাবে আসবে ইত্যাদি। জার্নাল ভেদে গবেষণা পত্রের ফরম্যাটিং-এ কিছু কিছু পরিবর্তন হয়, তবে মূল কাঠামো সব জাগাতে একই থাকে।

গবেষণা পত্র লেখার প্রথমেই একটি আউট লাইন তৈরি করুন। যেমনঃ ১. টাইটেল ২. এবস্ট্রাক্ট ৩. কী-ওয়ার্ড ৪. ইন্ট্রোডাকশন ৫. বিষয় ভিত্তিক আলোচনা ৬. রেজাল্ট ও ডিস্কাশন ৭. একনলেজমেন্ট ৮. কনক্লুশন এবং ৯. রেফারেন্স। এরপর এই কাঠামো ধরে ধরে লিখতে থাকুন। 

 ১.টাইটেল: জার্নাল পেপারের টাইটেল বা শিরোনাম দেওয়া একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ। গবেষণা পত্রটি মূলত কি নিয়ে, সেটার উপরে বা কিছু স্পেসিফিক কি-ওয়ার্ড জুড়ে দিয়ে সুন্দর-সংক্ষিপ্ত কিন্তু বিশ্লেষনাত্মক একটি প্রাসঙ্গিক শিরোনাম ঠিক করবেন। টাইটেলের নিচে অথর লিস্টে শিক্ষার্থীর নাম, সুপারভাইজারের নাম ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ন অবদান যারা রেখেছেন তাদের নাম রাখতে হবে। এফিলিয়েশনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা এবং অথরদের ইমেইল আইডি এবং এড্রেস দিতে হবে।
2. এবস্ট্রাক্ট: এবস্ট্রাক্ট বা সারমর্ম হল মূল গবেষণার সংক্ষিপ্ত সার। সাধারনত ৫০০ বা তার কম শব্দের মদ্ধ্যেই পুরো সারমর্ম লিখতে হয়। জার্নালের গাইড লাইন অনুযায়ী, অবশ্যই আপনার পেপারের গুরুত্ব অনুসারে কিছু ভুমিকা দিতে হবে। এরপরে খুব সংক্ষেপে পেপারে মূল কি বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে, কি কি মেথড ব্যবহার হয়েছে তার উল্লেখ করতে হবে। রেসাল্ট-ডিস্কাশনের কিছু অংশও এখানে যুক্ত করা যেতে পারে।
3. কী-ওয়ার্ড: ৫/৬ টি শব্দ নির্বাচনের মাধ্যমে আপনার লেখাটির মূল বিষয় পরিস্কার করে ফেলতে হবে। বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক টার্ম, প্যামিটারেরগুলোর নাম কীওয়ার্ড হিসাবে ব্যবহার করতে পারেন। টাইটেল থেকেও কিছু মূল শব্দ এখানে লিখতে পারেন।
4. ইন্ট্রোডাকশন: ইন্ট্রোডাকশন হল রিসার্চ পেপারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইন্ট্রোডাকশনে সাম্প্রতিক রেফারেন্স যুক্ত আপনার গবেষণা রিলেটেড কিছু কাজ উল্লেখ করতে হবে, বিশেষ করে যেই জার্নালে পাঠাবেন- সেই জার্নালে প্রকাশিত কিছু পেপার অবশ্যই যুক্ত করবেন। এই অংশে লেখার স্কোপ, তাতপর্য, গুরুত্ব, উদ্দেশ্য, আপনার পেপারের মূল আলোচ্য সমস্যার বর্নণা করতে হবে।
৫. বিষয় ভিত্তিক আলোচনা: এই অংশটি রিসার্চ পেপারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আপনার রিসার্চ পেপারের রেজাল্টের প্যারামিটারগুলো এখানে বর্ননা করতে হবে। যেসব ইকুপমেন্ট-যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়েছে তার পরিচিতি ও বর্ননা এখানে দিতে হবে। আপনার রিসার্চ পেপারে যে মেথডলজি ব্যবহার করেছেন, সেটা এখানে উল্লেখ করতে হবে।
৬. রেজাল্ট ও ডিস্কাশন: এই সেকশনে গ্রাফ ও টেবিল রাখতে হবে। আপনি যে মেথডলজি ব্যাবহার করেছেন, তার বাস্তব রেজাল্ট এখানে উল্লেখ করতে হবে। প্রতিটি টেবিল ও গ্রাফের/চার্টের বর্ননা পাশাপাশি রাখতে হবে। ডিস্কাশনে প্রাসঙ্গিক কিছু পেপারের রেজাল্টের সাথে প্রদত্ত পেপারের রেজাল্টের তুলনা রাখলে ভালো হয়।
৭. কনক্লুশন: রেজাল্ট সেকশনে প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ন তথ্য এইখানে পয়েন্ট আকারে লিখতে হবে। অবশ্যই কিছু নিউমেরিক্যাল রেজাল্ট থাকতে হবে, শুধু তুলনামূলক আলোচনা থাকলে চলবে না। আপনার পেপারের কি কি সীমাবদ্ধতা আছে তা এখানে উল্লেখ করবেন। এছাড়া এই পেপারের মেথডলজি ব্যাবহার করে ভবিষ্যতে কি কি কাজ করা যেতে পারে তা অবশ্যই উল্লেখ করবেন।
৮. একনলেজমেন্ট: আপনার ল্যাব এসিস্টেন্ট, সহকারী, পরামর্শদাতা, আর্থিক সাহায্যকারী প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম এই সমস্ত কিছুই এই অংশে উল্লেখ করবেন।
৯. রেফারেন্স: এটি পেপারের একবারে শেষে উল্লেখ করতে হবে। রেফারেন্স লেখার অনেক পদ্ধতি আছে। আপনি যে জার্নালে পাঠাবেন, সেখানে কোন পদ্ধতিতে লিখতে বলছে সেটা ফলো করুন। যেমনঃ হার্ভার্ড, নাম্বারিং সিস্টেম। রেফারেন্স সাজানোর অনেক সফটওয়ার আছে, যেমনঃ END NOTE(http://www.endnote.com/ ), ProCite (http://www.procite.com/ ) ইত্যাদি।

 


  (মোঃ হেলাল উদ্দিন, ৩৩ তম বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা)