Thursday, April 30, 2026

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও রাজনীতিতে জিয়াউর রহমানের অবদান -- মোঃ হেলাল উদ্দিন

জিয়াউর রহমান (১৯৩৬-১৯৮১) বাংলাদেশের একজন অসামান্য বীর মুক্তিযোদ্ধা, সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তা এবং সপ্তম রাষ্ট্রপতি। ১৯৭১ সালে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করে তিনি জাতিকে উজ্জীবিত করেন। ১৯৭৭-১৯৮১ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকে তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র, উৎপাদনমুখী রাজনীতি, ও সার্ক (SAARC) গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। 
জিয়াউর রহমানের পরিচয়
  • জন্ম: ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়ার বাগবাড়িতে।
  • সামরিক ক্যারিয়ার: ১৯৫৫ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন এবং ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে সাহসিকতার জন্য পুরস্কৃত হন।
  • মুক্তিযুদ্ধ: ১৯৭১ সালে চট্টগ্রাম থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, ১ নম্বর সেক্টর কমান্ডার এবং জেড ফোর্সের (Z Force) অধিনায়ক ছিলেন।
  • খেতাব: মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য তাঁকে 'বীর উত্তম' খেতাব দেওয়া হয় (সনদ নং ৩)।
  • রাজনীতি: ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনর্প্রবর্তন করেন।
  • মৃত্যু: ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হন। 
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অবদান
১. স্বাধীনতার ঘোষণা: ১৯৭১ সালের ২৬ ও ২৭ মার্চ চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন, যা দিশেহারা জাতিকে পথ দেখায়।
২. সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্স: যুদ্ধের শুরুতে ১ নম্বর সেক্টরের (চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী) কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে জুনে ১১ নম্বর সেক্টরের দায়িত্ব নেন এবং 'জেড ফোর্স' ব্রিগেডের নেতৃত্ব দেন, যা সিলেটের রণাঙ্গনে বড় সাফল্য পায়।
৩. প্রথম বেসামরিক প্রশাসন: যুদ্ধ চলাকালীন ২৮ আগস্ট ১৯৭১ সালে রৌমারী মুক্তাঞ্চলে প্রথম সিভিল প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করেন। [
বাংলাদেশের রাজনীতিতে অবদান
১. বহুদলীয় গণতন্ত্র ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা: একদলীয় শাসন ব্যবস্থা থেকে দেশকে বের করে ১৯৭৭ সালে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়ে বহুদলীয় রাজনীতি ও বাকস্বাধীনতা বা সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনেন।
২. দল গঠন ও দর্শন: ১৯৭৮ সালে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন এবং 'বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ' ও 'উন্নয়ন রাজনীতি'র দর্শন সামনে আনেন।
৩. অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সার্ক (SAARC): 'খাল কাটা' কর্মসূচি, 'উৎপাদনমুখী' রাজনীতি এবং উন্নয়নমুখী পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশকে স্বনির্ভর করার চেষ্টা করেন। দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (SAARC) গঠনের মূল উদ্যোগ ছিল তাঁর।
৪. পররাষ্ট্রনীতি: পররাষ্ট্রনীতিতে ভারসাম্য এনে ভারত, চীন, পাকিস্তান ও মুসলিম বিশ্বের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করেন। 
জিয়াউর রহমান দেশের চরম সংকটে স্বাধীনতা ঘোষণা এবং পরবর্তীকালে রাষ্ট্র পরিচালনার মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতিতে অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত।

 

No comments:

Post a Comment