Saturday, October 17, 2020

পলাশীর যুদ্ধ ও ব্রিটিশ শাসনের ভিত্তি


১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের মাধ্যমে বাংলায় ব্রিটিশ শাসনের ভিত্তি স্থাপিত হয় মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতায় মাত্র ৮ ঘণ্টার এই যুদ্ধে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি জয়ী হয়, যা ভারতে প্রায় ২০০ বছরের ঔপনিবেশিক শাসনের (১৭৫৭-১৯৪৭) সূচনা করে। এটি বাংলার রাজনৈতিক স্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে কোম্পানিকে প্রধান শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। 
পলাশীর যুদ্ধ ও ব্রিটিশ শাসনের ভিত্তি: মূল দিকসমূহ
  • ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: তরুণ নবাব সিরাজউদ্দৌলা ১৭৫৬ সালে মসনদে বসেন। ইংরেজদের শুল্কমুক্ত বাণিজ্যের অপব্যবহার, কলকাতার দুর্গ নির্মাণ এবং নবাবের শত্রুদের আশ্রয় দেওয়া নিয়ে সিরাজের সাথে কোম্পানির দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করে।
  • বিশ্বাসঘাতকতা ও পরাজয়: ক্লাইভের নেতৃত্বে ব্রিটিশ বাহিনী এবং মীরজাফর, রায়দুর্লভ, জগৎশেঠদের ষড়যন্ত্রের ফলে ২৩ জুন ১৭৫৭ সালে পলাশীর আম্রকাননে নবাবের বিশাল বাহিনী পরাজয় বরণ করে।
  • ব্রিটিশ শাসনের ভিত্তি স্থাপন: এই যুদ্ধের পর মীরজাফরকে পুতুল নবাব হিসেবে বসিয়ে কোম্পানি বাংলার ক্ষমতার চাবিকাঠি হাতে নেয়। এটি কোম্পানিকে কেবল বণিক থেকে শাসক শক্তিতে রূপান্তরিত করে।
  • অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব: পলাশীর যুদ্ধের পর কোম্পানি বাংলার সম্পদ অবাধে লুণ্ঠন শুরু করে, যার ফলে বাংলা বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশ থেকে হতদরিদ্র দেশে পরিণত হয়। এর ধারাবাহিকতায় ১৭৬৫ সালে কোম্পানি দেওয়ানি লাভ করে, যা শাসন ব্যবস্থাকে সরাসরি ইংরেজদের নিয়ন্ত্রণে আনে।
  • সুদূরপ্রসারী ফল: পলাশীর পরাজয় বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত করে এবং সমগ্র উপমহাদেশে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের পথ সুগম করে। 
সংক্ষেপে, পলাশীর যুদ্ধ ছিল একটি ক্ষুদ্র সামরিক সংঘাত কিন্তু এর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ফলাফল ছিল ভয়াবহ, যা এই অঞ্চলে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনকে সুদৃঢ় করে


 


(মোঃ হেলাল উদ্দিন, ৩৩ তম বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা)

No comments:

Post a Comment